বিশ্ব সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি হুমকিতে

পুরো বিশ্ব এখন থমকে আছে করোনাভাইরাস আতঙ্কে। প্রভাবশালী অনেক দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সেই প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বন্ধ হচ্ছে জনসমাগম হওয়া জায়গাগুলো। বিশ্ব বিনোদন জগতে এখন থমথমে অবস্থা। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এই প্রভাব পড়েছে প্রকটভাবে। আটকে আছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। অনেকে এরই মধ্যে গুনছেন ক্ষতির হিসেব। কারণ হল বন্ধ ও শ্যুটিং স্থগিত। তারকাদের অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন, আবার অনেকে রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে।

সবকিছু মিলিয়ে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন হুমকির মুখে। বিশেষ করে হলিউড ও বলিউডে এই আতঙ্কে ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি অর্থ। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি রুপি।  কেরালা, জম্মু-কাশ্মীর, দিল্লি, কর্নাটক ও মুম্বাইয়ে শুক্রবার থেকে বন্ধ শপিং মল, জিম ও সিনেমা হল। অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘সূর্যবংশী’র মুক্তির দিন পিছিয়ে গেছে। এই আতঙ্কের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছে ইরফান খান, কারিনা কাপুর, রাধিকা মাদান অভিনীত ‘অংরেজি মিডিয়াম’। কিন্তু সব সিনেমা হল বন্ধ থাকায় চলচ্চিত্র নির্মাতারা ছবিটি ফের মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টাইগার শ্রফের ‘বাঘি থ্রি’। মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র পরিবেশক রাজেশ থাডানি বলেন, ‘বলিউডে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যবসার ক্ষতি হতে পারে। বড় বড় সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে গেছে। ‘বাঘি থ্রি’র লোকসান হয়েছে ১০ শতাংশ।’ বক্স অফিস ইন্ডিয়ার মতে, মুক্তি পাওয়া ছবি মুখ থুবড়ে পড়া, বেশ কিছু ছবির মুক্তি আটকে থাকা এবং বহু ছবির শ্যুটিং বন্ধ হওয়া, সব মিলিয়ে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির ৮০০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। কতদিন এ রকম পরিস্থিতি থাকবে, তা নিয়ে চিন্তায় পুরো বলিউড।

করোনার আতঙ্ক অনেক আগেই ছড়িয়ে পড়েছে হলিউডে। ব্যবসায় মার খাওয়ার আশঙ্কায় পিছিয়ে যাচ্ছে নতুন চলচ্চিত্রের মুক্তি। অন্যদিকে জনসমাগম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বাতিল করে দিতে হচ্ছে সিনেমা ও টিভি অনুষ্ঠানের নির্মাণকাজ। কনসার্ট, থিয়েটার থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র উৎসব বা পুরস্কার বিতরণীÑ হয় বাতিল, না হয় পিছিয়ে যাচ্ছে সব। এখন পর্যন্ত গোটা দশেক চলচ্চিত্রের মুক্তি পিছিয়ে দিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। জেমস বন্ড ভক্তরা ১০ এপ্রিল দেখতে পারছেন না ‘নো টাইম টু ডাই’। এটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের শেষে। এ বছরের অন্যতম আকর্ষণ ডিজনির ছবি ‘মুলান’ ও স্টুডিও মার্ভেলের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ সিনেমা দুটি ২৭ মার্চ মুক্তির কথা থাকলেও তা বাতিল হয়েছে। মুক্তির নতুন তারিখও অনিশ্চিত। মার্চেই মুক্তির কথা ছিল ‘আ কোয়ায়েট প্লেস-পার্ট টু’, তা-ও বাতিল হয়ে গেছে। ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াসের নবম কিস্তির মুক্তি পিছিয়েছে ১১ মাস। এ ছাড়া ‘দ্য লাভ বার্ডস’, ‘ব্লু স্টোরি’, ‘দ্য নিউ মিউট্যান্টস’, ‘অ্যান্টলারস’, ‘মাই স্পাই’, ‘পিটার র‌্যাবিট টু’ ও ‘দ্য সেক্রেট গার্ডেন’ ছবিগুলোর মুক্তি পিছিয়ে গেছে কয়েক মাস। এতগুলো সিনেমা পিছিয়ে যাওয়ায় হলিউডে এক হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

পুরো বিশ্বের মতো করোনার এই প্রভাব পড়েছে দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতেও। গত ২ এপ্রিল পর্যন্ত সিনেমা হলগুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হল মালিক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ বলেন, ‘করোনার কারণে হল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিনেমা হলে দর্শক যাচ্ছে না। বিশেষ করে সিনেপ্লেক্সগুলোতে জনসমাগম বেশি হয়। এছাড়া অন্যান্য হল ফাঁকাই থাকে। তারপরও করোনা আতঙ্কে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘করোনা থেকে বাঁচতে আমাদের সচেতনতা সবার আগে প্রয়োজন। জনসমাগম যেখানেই হবে সেটাই বন্ধ করা উচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে সিনেমা হল বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের হলগুলোও আপাতত বন্ধ।’ করোনা আতঙ্কের শুরুতেই মুক্তি পায় শাকিব খানের ‘শাহেনশাহ’ সিনেমাটি। ব্যবসায়িক সংকটে পড়ে সিনেমাটি।