প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত

করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিদিনই বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শ্রমিকরাও কারখানায় কাজ করতে চাইছেন না। এ পরিস্থিতিতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে করেছেন শিল্প মালিকরা। গতকাল রাজধানীর বিজয়নগরের শ্রম ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। বৈঠকে শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, যেভাবেই হোক শিল্পের চাকা সচল রাখতে হবে। এখন কারখানা বন্ধ হলে পরিস্থিতি ভিন্নদিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় আগামী মঙ্গলবারের বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন তারা। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  সভায় শিল্পকারখানা বন্ধ না করে বরং শ্রমিকদের আরও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন শিল্প মালিকরা। 

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, এই সংকট পুরো বিশ্বের। বড় বড় ব্র্র্যান্ডের ক্রেতারা আউটলেট বন্ধ রেখেছেন। প্রতিদিন অর্ডার বাতিল হচ্ছে, এ বাস্তবতা মানতে হবে। অনেক কারখানার মালিক বলছেন, আর চালাতে পারছি না। লে-আউট ঘোষণা করলে শ্রমিকদের পাওনা দিতে হবে, সে টাকাও নেই।

বৈঠকে বক্তব্য দেন বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, রপ্তানিকারক শিল্প মালিকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।

আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, এ মুহূর্তে কারখানা বন্ধ করলে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো মালিকের সমস্যা থাকলে সে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ১৪ দিনের হিসেব করলে চলবে না। আমাদের ভাবতে হবে, সামনে দুই ঈদ রয়েছে। মার্চের বেতন রয়েছে। তিন মাসের কথা ভাবতে হবে। মিলকারখানা বন্ধের চিন্তা যেন কারও মাথায় না আসে।

এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের সচেতনতার জন্য কাজ করছি। করোনা বৈশ্বিক সমস্যা। এটা সবাই মিলে মোকাবিলা করতে হবে।

বৈঠক শেষে সেলিম ওসমান বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থা হয়নি। অর্ডার না থাকলে তখন চিন্তা করা যাবে। আশা করি আমরা শ্রমিকদের রক্ষা করতে পারব। শ্রমিক না বাঁচলে শিল্প বাঁচবে না। তাই তাদের কথা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে করোনাভাইরাস থেকে শ্রমিকদের রক্ষায় পোশাক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি।

সংগঠনটির সভাপতি তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এক  বিবৃতিতে গতকাল এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য পণ্য মজুদদারি কিংবা বাসা ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকরা যাতে বিপর্যয়ের মধ্যে না পড়েন তার জন্য সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতারা বলেন, আপাতত পোশাক কারখানা বন্ধ রাখলে সাময়িকভাবে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হলেও ভবিষ্যতের বিপদ দূর হবে। এই চাপ দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনে স্বল্প সুদে ঋণ, আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিতে আহ্বান জানান তারা।