প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে ৫ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন কভিড-১৯ রেসপন্স টিমের গবেষকরা। গবেষণাপত্রটি ফার্গুসন মডেল অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এই মডেলের বিপরীতে বাংলাদেশের বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যার প্রেক্ষাপটে কতসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হতে পারে, তাও গবেষণায় বলা হয়েছে।
করোনা আক্রান্ত রোগী মৃত্যুবরণের আগে ভাইরাসটি অনেক দিন শরীরে থেকে বিস্তার লাভ করে। এই বিস্তারের ভিত্তিতে এপিডেমওলজিস্টরা মডেল করে বলতে পারেন, ওই রোগী কবে সংক্রমিত হয়েছেন এবং এর মধ্যে কতজনকে সংক্রমিত করেছেন। করোনা আক্রান্ত একজন আরেকজনকে সংক্রমিত করার হার কী, সম্ভাব্যতা ও ব্যাখ্যামূলক প্রবৃদ্ধি অনুসারে বাকিরা কতজনকে সংক্রমিত করেছেন, তার ভিত্তিতে ফার্গুসন মডেল খুবই স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাডেমিক মডেল।
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে গত বৃহস্পতিবার ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের প্রকাশিত গবেষণায় দাবি করা হয়, যেহেতু ৮ মার্চ পর্যন্ত যে পরিমাণ রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে তা সম্ভবত কমিয়ে বলা হতে পারে। তাই আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমরা ১৮ মার্চে করোনায় মৃত্যুর সরকারের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে খোঁজার চেষ্টা করেছি সংক্রমণটা কতদূর ছড়াতে পারে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ২ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের প্রবেশ ঘটে এবং যেদিন ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর প্রথম মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেদিন সারা দেশে ১ হাজার ৬৮৫ জন সংক্রমিত রোগী থাকার কথা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ২১ হাজার ৪৬১ জন আক্রান্ত হবে। এদের মধ্যে ২৭৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগবে। ১৩ রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিলেও মোট ৬ জনের মৃত্যু হবে বলে গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ফার্গুসন মডেল অনুসারে ভাইরাসটি প্রশমন অথবা দমনে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মানুষজন আগামী ৮ মে পর্যন্ত আক্রান্ত হতে থাকবে। এই মহামারী শেষ হবে মোট ৮ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার ১৬১ জন আক্রান্তের মধ্য দিয়ে। এদের মধ্যে ৩০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৩ জনকে হাসপাতালে নিতে হবে, যাদের ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯৫ জনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া লাগবে। এরপরও ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৪২ জনের মৃত্যু হতে পারে। তবে বাংলাদেশে বর্তমান আক্রান্তের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ২৭ মে পর্যন্ত ৫২ হাজার ৯৬৭ জনে ঠেকবে।
গত ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে। মহামারীটি শুধু বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নয়, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশে ৮ মার্চ ৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৯ মার্চ পর্যন্ত ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনজন সেরে উঠেছেন বর্ণনা দিয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন বলেছে, ছোট্ট এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি, আইসিইউতে চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিষয়ে অনুমান দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের আদমশুমারি (পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশ করে ২০১৫ সালে) অনুযায়ী বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪০ লাখ। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষণা বলছে, করোনাভাইরাস প্রশমন অথবা দমনে কোনো পদক্ষেপ না নিলে ১৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হবে। যদিও বাংলাদেশের জনসংখ্যায় তরুণদের আধিক্য রয়েছে। তারপরও ৩ দশমিক ৪ শতাংশকে হাসপাতালে নেওয়া লাগতে পারে। হাসপাতালের ২২ দশমিক ৯ শতাংশ রোগীর মধ্যে শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশকে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরে রেখে চিকিৎসা দিলেও শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হবে।