ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে রাজধানীর ধানমণ্ডির প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৯টি কক্ষেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল ইসলামের এজেন্ট দেখা গেলেও বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউলের এজেন্ট চোখে পড়েনি। ভোট শুরুর পর গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে এ দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতিটি কক্ষেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। একটি কক্ষের সামনে নৌকা প্রতীকের ব্যাজ পরিহিত ৩৮-৪০ বছর বয়সী এক সমর্থককে ২২-২৩ বছর বয়সী একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ফিঙ্গার নিয়ে (ভোটারকে) পাঠিয়ে দিবি, তারপর (ইভিএমে) টিপ দিবি তুই।’ এ বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন, ‘না, কই আমরা তো ভোটার।’ কেন্দ্রের বাইরেও তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পরে এ বিষয়টি জানালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাছান
দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ রকম তো হওয়ার কথা না।’ এরপর তিনি প্রতিটি কক্ষে গিয়ে সবাইকে বেরিয়ে আসতে বললেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা এতে রাজি হননি। খানিক পর তারা বলেন, ‘আমরা তো ভোটার, ভোট দিতে আসছি।’ এ নিয়ে কিছুক্ষণ বাদানুবাদ শেষে অবশ্য তারা বেরিয়ে যান। এই কেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষে কয়েকজন ভোটারকেও দেখা গেছে।
বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই গতকাল ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট হয়েছে। সব কেন্দ্রেই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হয় ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন)। গত ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আওয়ামী লীগের সাংসদ ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস পদত্যাগ করলে এ আসনটি শূন্য হয়।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রায়েরবাজার উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও প্রতিটি কক্ষে নৌকার প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের ব্যস্ততা দেখা যায়। কেন্দ্রের বাইরেও সরব ছিলেন সমর্থকরা। তবে ভোটারের তেমন একটা দেখা মেলেনি। এখানে নৌকা মার্কার কার্ডধারী এক সমর্থককে অন্যদের বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, আপনারা সবাই হালকা হইয়া যান। মিডিয়া আইছে। পরে ঢুইকেন। আবার শুনলাম বিএনপি প্রার্থী নাকি আসছে।’
এ বিষয়টি জানালে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘না, এ রকম কিছু তো আমি দেখি নাই। কে বলল আপনাকে?’ পরে দেখানোর পর তিনি বলেন, ‘আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি, দেখছি।’
রায়েরবাজার স্কুল কেন্দ্রে পরিদর্শনে এসে বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এজেন্টদের মেরে বের করে দিয়েছে। শুধু একটা কেন্দ্রে নয়। সবগুলো কেন্দ্রেই এ অবস্থা। আমরা অসহায় সবাই। সম্পূর্ণ নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে গেছে, বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহতাব উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ রকম মুখে অভিযোগ দিলে তো হবে না। নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানালে তারা ব্যবস্থা নেবে।’