দেশের শুরুর দিকের ক্রিকেটার রেজা-ই-করিম আর নেই

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন অনেক দিন ধরে। অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের শুরুর দিককার ক্রিকেটার ও সংগঠক রেজা-ই-করিম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

সংবাদমাধ্যমকে রবিবার রেজা-ই-করিমের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন তার ছেলে নাজমুল করিম, “বাবা কয়েক দিন ধরেই একটু বেশি অসুস্থ ছিলেন। আজ ফজরের সময় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।”

নাজমুল জানিয়েছেন, রবিবারই ফার্মগেটের বাইতুশ শরফ জামে মসজিদে বাদ জোহর রেজা-ই-করিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

দেশের ক্রিকেটের শুরুর দিককার অন্যতম কান্ডারি ছিলেন রেজা-ই-করিম। ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি’র প্রথম কার্যনির্বাহী সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক রেজা-ই-করিম পেশায় ব্যাংকার। তবে ক্রিকেট ছিল তার ভালো লাগার জায়গা।  এক সময় ক্রিকেট খেলেছেন। পাকিস্তান আমলে ঈগলেটস দলের খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই তার সংগঠক হিসেবে কাজে জড়িয়ে পড়া।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটকে প্রায় ‘শূন্য’ থেকে যারা শুরু করেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন রেজা-ই-করিম। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ পাওয়ার পেছনেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সফর করে বিখ্যাত মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সেটিই ছিল কোনো বিদেশি ক্রিকেট দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর। এমসিসিকে যে আমন্ত্রণপত্রটি পাঠানো হয়েছিল, সেটির খসড়া করেছিলেন রেজা-ই-করিম। দেশের মাটিতে এমসিসির বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

সংগঠক-আম্পায়ারিং ছাড়াও রেজা-ই-করিম আশির দশকে জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বহুদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন দেশের ক্রিকেটের দুঃসময়ের অন্যতম এই সংগঠক। দুটি কিডনিরই কার্যক্ষমতা বেশির ভাগই হারিয়েছিলেন। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণেও আক্রান্ত হয়েছিলেন একবার। সঙ্গে ছিল শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ। আক্রান্ত ছিলেন ক্যানসারেও।

রেজা-ই-করিমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি।