করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসমাগমস্থলে জীবাণুনাশক ছিটানো, সব পৌরসভায় কন্ট্রোল রুম চালু, কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন, সচেতনতায় লিফলেট-মাইকিং, পৌরসভার আওতাধীন সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখাসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। গত শনিবার পৃথক চিঠির মাধ্যমে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। আর নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ সরকারকে ফোকাল পয়েন্ট মনোনীত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার সংক্রমণরোধে জেলা-উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাকে বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব খাত থেকে আসা প্রত্যেকের নিজস্ব তহবিল থেকে দুর্যোগকালীন ব্যয় করতে পারবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। আশা করছি, জনগণ এসব পদক্ষেপে সহযোগিতা করবে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে জনসমাগম হয়, এমন স্থানে জীবাণুনাশক ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের (সিটি করপোরেশন-১) উপসচিব একেএম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি রাজধানীসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। একই দিন উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (পৌরসভা-১) স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতে আটটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে সুবিধাজনক স্থানে সাধারণ মানুষের হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও স্যানিটাইজার রাখা, মাইকিং, লিফলেট ও ব্যানারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা, জনসমাগমরোধে ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলরের মাধ্যমে মনিটরিং, পৌর এলাকায় বিদেশফেরতদের ঘরের বাইরে না আসার বিষয়ে তাকেসহ পরিবারের সদস্যদের সচেতন করা এবং পৌর এলাকার সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রস্তুত ও একটি কন্ট্রোল রুম খোলা।
কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিটি মেয়রকে প্রধান ও সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে এ কমিটিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জন, জেলা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার পরিচালক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষার বিভাগীয় পরিচালক, সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক ও পরিবার পরিকল্পনার পরিচালকদের রাখা হয়েছে।
অমিতাভ সরকার আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আমাকে ফোকাল পয়েন্ট মনোনীত করেছে। আমি সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় কথা বলছি। কাজ শুরু হয়ে গেছে। সবাই মিলে কাজ করলে এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাব বলে আশা করছি।’