রাজধানীর উত্তরায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবরে রিজেন্ট হাসপাতাল ঘেরাও করে এলাকাবাসী। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালটি ঘেরাও করে প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা এ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের তারা চিকিৎসা দিতে দেবেন না।
থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা রোগী এই ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়ার গুজবে এলাকার লোকজন জড়ো হয়েছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আগামীকাল (আজ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবহিত করা হবে। কল্যাণ সমিতির নেতাদের বলেছি সবাইকে শান্ত থাকতে। ক্লিনিক কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যারা চুক্তি করেছে তাদের সঙ্গে কথা বলতে। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালটি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এই হাসপাতাল এমনিতেই আবাসিকের মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর এখানে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া নানা কায়দায় এখানে রোগী ভর্তি করা হয়। গ্রামাঞ্চল থেকে অসহায় রোগীদের ভাগিয়ে এনে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েও নেয়। প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু লোককে ম্যানেজ করারও অভিযোগ আছে।
উত্তরা ১১ নম্বর কল্যাণ সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান মুরাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহল্লার ভেতরে গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে। করোনা রোগীদের এখানে চিকিৎসা দেওয়া হবে শুনে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে। হাসপাতালে যাতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা না দেয়া হয়, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
একই কথা বলেছেন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফুর রহমান। তিনি বলেন, জীবন দিয়ে হলেও এলাকার শান্তি-পরিবেশ বজায় রাখব। সেক্টরের ভেতরে কোনো করোনা রোগীর চিকিৎসা করতে দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতাল প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা রিজেন্ট গ্রুপের হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কক্ষে রিজেন্ট হাসপাতালের পক্ষে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ শাহেদ।