করোনাভাইরাস আতঙ্কে প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তার উধাও

করোনাভাইরাসের কারণে মাদারীপুরে চার উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত চেম্বারে বসছেন না চিকিৎসকেরা। ক্লিনিক মালিকেরা বলছেন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কারণে চিকিৎসকেরা বসছেন না। এদিকে সরকারি হাসপাতালে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশির কোনো চিকিৎসা দিচ্ছে না জরুরি বিভাগ। এতে রোগীরা যেমন বিপাকে পড়ছেন, তেমনি আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

মাদারীপুর নিরাময় হাসপাতালে গত রবিবার বিকেলে এক চিকিৎসক শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি আসেননি। এতে প্রায় শতাধিক রোগীর স্বজন চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গেছেন। চেম্বারে কোনো ডাক্তার আসেননি। চৌধুরী হাসপাতালে এর আগে প্রায় ৭-৮ জন ডাক্তার নিয়মিত রোগী দেখতেন। কিন্তু সেখানে একজন চিকিৎসক ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।

হৃদয় নামে একজন রোগীর আত্মীয় বলেন, ‘আমি সেই ৩টার সময় এসেছি, এখনো ডাক্তার আসেনি। হাসপাতালে জানতে চাইলে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ বলেনি যে তারা আসবে না। তবে রাত হয়ে আসলে সিরিয়াল লেখা একজন জানায় ডাক্তার আসবে না, সে ছুটি নিয়েছে।’

রুবেল হাওলাদার নামে এক শিশু রোগীর বাবা বলেন, তিন দিন আগে আমার ছেলেকে নিয়ে ডাক্তার ফিরোজের কাছে এসেছিলাম এবং ছেলের রক্তে সমস্যা পেয়েছিল। তাই আবার তিন দিন পর আসতে বলেছে। কিন্তু আজ (গতকাল) এসে তাকে পাচ্ছি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি ক্লিনিকে কর্মরত ডাক্তার বলেন, ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকলেও কোনো কোনো ডাক্তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেখছেন রোগী। আর যারা রোগী দেখছেন না তারা নিরাপত্তার অভাবেই রোগী দেখছেন না বলে জানালেন কর্তব্যরত ডাক্তাররা।

এ ব্যাপারে নিরাময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘আমরা মানবসেবায় জড়িত কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে আমরা সেটা করতে পারছি না। তবে জরুরি ব্যবস্থা চালু রেখেছি। আর ডাক্তাররা ছাড়াও তাদের পরিবার থেকে আমার কাছে বিষয়টি জানিয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে তাদের ছুটি দিয়েছি।’

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সফিকুল ইসলাম জানান, জরুরি বিষয় ছাড়া ডাক্তারের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ আমি দিচ্ছি। তবে ফোনে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। আর প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সরকারি যারা ডাক্তার আছেন, তারা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে আমরা জানতে পেরেছি প্রাইভেট ক্লিনিকে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন না। প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে ডাক্তাররা নিজেদের সেফটি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেবেন।