মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যুক্তরাজ্যফেরত এক নারী (৬০) গত রবিবার সকালে মারা গেছেন। ওই নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন সন্দেহে গতকাল সোমবার দুপুরে পৌর এলাকার কাশীনাথ রোডে তারটিসহ পাঁচটি বাসা লকডাউন করেছে প্রশাসন। তবে স্বজনদের দাবি, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এছাড়া রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এক ভারতীয় নারীর মৃত্যুর পর এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়। এদিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রবিবার রাতে মারা যাওয়া ইতালিফেরত আবদুল খালেক (৬০) ও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধি দল। খালেকের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরা ওই নারীকে হৃদরোগের কথা বলে রবিবার সকালে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয় এবং আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইজিসি করতে বলা হয়। কিন্তু স্বজনরা ইজিসি না করেই তাকে শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
ওই ক্লিনিকের পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যখন আমাদের কাছে আনা হয় তখন সেই রোগী মৃত ছিল। আমরা ইসিজি করেও মৃত পাই।’
এরপর শহরে নানা গুজব ছড়াতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে রবিবার রাতে ও গতকাল সকালে জরুরি মিটিংয়ে বসে মৌলভীবাজারের করোনা প্রতিরোধ কমিটি। এরপর দুপুরে ওই নারীর বাসাসহ পাঁচটি বাসা লকডাউন করে দেন সিভিল সার্জন।
স্থানীয়রা বলছেন, ওই নারীর পাশের বাসায় ইতালিফেরত আরেকজন অসুস্থ আছেন। তবে স্বজনদের দাবি, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারব না।’
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পাঁচটি বাসা লকডাউন করেছেন সিভিল সার্জন। আমরা শুধু সহযোগিতা করেছি। এর বেশি কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
গোদাগাড়ীতে ভারতীয় নারীর মৃত্যু : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গতকাল ভোর ৫টার দিকে নবিজান বেগম (৬০) নামে এক ভারতীয়র মৃত্যুর পর এলাকায় করোনাভাইরাসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তালেব
বলেন, ‘আগের চিকিৎসাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট এবং পরিবারের তথ্য অনুযায়ী ওই নারী হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন আর এ কারণে তার মৃত্যু হয়।’
দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নবিজান বেগমের ভারতের উত্তর প্রদেশের শিবধাত গ্রামের মহিবুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। গত ১১ মার্চ ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে ইউনিয়নের গণকের ডাইং গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তাকে দাফন করা হয়।
ভৈরবে ইতালিফেরত মৃত ব্যক্তিসহ স্বজনদের নমুনা সংগ্রহ : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইতালিফেরত আবদুল খালেক (৬০) ও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘আইইসিডিআর প্রতিনিধিরা মৃত আবদুল খালেক এবং তার স্ত্রী ও দুই ছেলের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় চলে গেছেন। আমরা তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হোম কোয়ারেন্টাইন করেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসা ও ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) মো. বাহালুল খান বাহারও উপস্থিত ছিলেন। হিমাদ্রী খীসা বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহের পর আমরা আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃতদেহ প্যাকেটিং করে সিলগালা করি। পরে শহরের পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।’
ভৈরব উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি জানায়, গত রবিবার রাতে কমলপুর এলাকার ডক্টরস চেম্বার (সাঈদ-ইউসুফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল) নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আবদুল খালেক মারা যান। তিনি শহরের জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলমাছ আলীর ছেলে। খালেক গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইতালি থেকে দেশে ফেরেন। তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
ডক্টরস চেম্বারের ওটি ইনচার্জ মো. সুলেমান জানান, আবদুল খালেকের স্বজনরা যখন নিয়ে আসেন তখন তিনি মারা গেছেন। ফলে তাদের হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। (প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী; ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি এবং মৌলভীবাজার সংবাদদাতা)