বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সব সিনেমা হল বন্ধ। আপাতত তাই ছবি মুক্তির প্রশ্নই আসছে না। ভারতেও মোটামুটি একই অবস্থা। পিছিয়ে গেছে অক্ষয় কুমারের সূর্যবংশী, রণবীর সিংয়ের এটি থ্রির মতো বড় বাজেটের সিনেমাগুলো। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে। হলিউডে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সিনেমার মুক্তির তারিখ পিছিয়েছে। এসব কী কারণে হয়েছে তা সবাই জানে। এমন সময়, যে চীন থেকে করোনার উৎপত্তি তারা আশার আলো দেখিয়েছে। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুসারে, বেশ কিছু হল খুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সব অঞ্চলে যেখানে পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ ধরে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি, সেখানে। সোমবার চীনের উরুমকি, জিংজিয়াং, কিনহাই ও ফুজিয়ান প্রদেশে ১৭টি হল খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে করোনার প্রকোপ কমলে আবার বিনোদন অঙ্গন চাঙা হয়ে উঠবে। সুদিনের অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ। সবাই আশা করছে, পহেলা বৈশাখে বিনোদন জগৎ ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও ঈদুল ফিতরে ফিরে পাবে তার জৈলুস। ঈদ বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ হলো নতুন সিনেমা। তারকা, দর্শক ও হল মালিকরা ঈদের সিনেমার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। কিন্তু এখন দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা এত কমে গেছে যে ঈদের সিনেমাতেও লাভের মুখ দেখা কঠিন প্রযোজকের। এই সংকটজনক অবস্থা কাটানোর জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশি দেশ ভারতের সিনেমা হলগুলোতে এক থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে একাধিক ছবি। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে এই নিয়মে সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। বহুকাল ধরে বাংলাদেশের হলে সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে একটি করে ছবি। অঘোষিত এ নিয়ম চলছে এখনো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সিনেমা মুক্তির এই রীতিতে আসছে নতুন নিয়ম। আগামী রোজার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা মুক্তির ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। নতুন এই নির্দেশনায় রোজার ঈদ থেকে সপ্তাহে একটি হলে একটি নয়, মুক্তি পাবে দুটি সিনেমা।
সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করেছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান। যেখানে সপ্তাহে একটি হলে দুটি করে ছবি মুক্তির আবেদন করেন তিনি। যা আমলে নিয়ে কার্যকরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সপ্তাহে একটি হলে একটি নয়, মুক্তি পাবে দুটি ছবি। কিন্তু নতুন নিয়ম মানতে চান না চলচ্চিত্র প্রযোজক কিংবা পরিচালকরা। কারণ নতুন নিয়ম কার্যকর করতে বছরে ২০৮টি ছবি মুক্তির দরকার হবে। যা বাংলাদেশে এখন অসম্ভব। বছরে মুক্তি পায় মাত্র ৪৫ থেকে ৬০টি ছবি। তাই এ নিয়ম মানা সম্ভব না বলেই জানিয়েছেন পরিচালক ও প্রযোজকরা। তবে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিলেও চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি আপাতত একটি হলে সপ্তাহে একটি করে ছবিই মুক্তির রীতি রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির নেতা সামসুল আলম।