দেশের কথা ভেবে ঘরে থাকুন

মঞ্চ ও টেলিভিশনের প্রিয়মুখ নাজনিন হাসান চুমকি। প্রথম সিনেমাতেই পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। করোনার মৌসুমে ঘরে সময় কাটাচ্ছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

মঞ্চ ও টেলিভিশনের প্রিয়মুখ নাজনিন হাসান চুমকি। প্রথম সিনেমাতেই পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। করোনার মৌসুমে ঘরে সময় কাটাচ্ছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ ঘরের ভেতর সময় কেমন কাটছে?

আমি বরাবরই পারিবারিক মানুষ। তাই আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বই পড়ছি, সিনেমা দেখছি, পরিবারের সবাইকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যা যা করণীয় তাই করছি। এসব করতেই তো দিন পার হয়ে যাচ্ছে। আমরা শিল্পী, শুধু নিজের পরিবারের কথা আমাদের অন্তত ভাবলে চলে না। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট শেয়ার করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।

পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

কিছুদিন ঘরে থাকলে যদি পুরো দেশ, পুরো পৃথিবী বেঁচে যায় তাহলে আমাদের ঘরে থাকতে সমস্যা কোথায় বুঝতে পারছি না। ঠিক আছে, নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কাজে বেরুনো জরুরি। কিন্তু সেই সংখ্যার চেয়ে বাকি সংখ্যাটা অনেক বেশি। তারা কেন ঘরে থাকছে না এখনো? এ নিয়ে আমি খুবই বিচলিত। ঘরে থেকে কীভাবে সময় কাটবে এ নিয়েও অনেকে অনেক বেশি ভাবছেন। আসলে আমরা কি তাহলে এতই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছি? পরিবার ও কাছের মানুষদের থেকে এতটাই দূরে চলে গেছি যে এই কটা দিন তাদের সঙ্গে কাটানো যাবে না? পৃথিবীর সামগ্রিক পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেলে তো আবার আপনি বাইরেই সারাটা সময় কাটাতে পারবেন। এই কটা দিন না হয় পরিবারকে সময় দিন। আমি বলতে চাইছি না, এমন একটা ছুটি কারও কাম্য। কিন্তু যেহেতু কিছু করার নেই, সুতরাং সাবধানতা অবলম্বন করুন। ঘরে থাকুন, নিজে সুস্থ থাকুন, সবাইকে সুস্থ থাকতে দিন। 

সামাজিক মাধ্যমে করোনা নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে কী বলবেন...

এসবের কোনো ভিত্তি নেই। আমি তো পরামর্শ দেব, নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম ছাড়া করোনা নিয়ে কোনো নিউজ বা ভিডিও দেখাটাও বোকামি। এতে মানুষের মধ্যে আরও ভয় ঢুকে যাচ্ছে অথবা মানুষ এটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছে না। এর ফলে একদল মানুষ দিব্যি বাইরে ঘুরছেন, আরেক দল এতটাই মানসিক চাপে আছেন যে, কোনো কোনো সময় তা সহ্য করতে না পেরে কাছের মানুষের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করে ফেলছেন। এতে পারিবারিক শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। সাময়িক বিপদ নিয়ে ভাবতে ভাবতে দীর্ঘস্থায়ী অশান্তি ডেকে আনার কোনো মানে হয় না।

সর্বশেষ কী কাজ করলেন?

সর্বশেষ ২০ মার্চ দীপ্ত টিভির জন্য নির্মিত পারভেজ আমিনের ‘আগুন পাখি’ ধারাবাহিকের কাজ করেছি। এখন কাজ নিয়ে কথা বলার কোনো আগ্রহই পাচ্ছি না। তবে আমি নাটকের সঙ্গে জড়িত ক্যামেরার পেছনের মানুষ যেমন, স্পট বয়, লাইটের লোক, ক্যামেরার লোকদের নিয়ে খুবই চিন্তিত। তারা দিন আনে দিন খায়। এদের কী হবে এটা ভাবতে ভাবতে নিজের কোনো কাজে মন দিতে পারছি না। চেষ্টা করছি তাদের জন্য কিছু করার।