সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশনে মারা যাওয়া যুক্তরাজ্যফেরত নারী (৬১) ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মারা যাওয়া ইতালিফেরত আবদুল খালেক (৬০) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) বরাতে গতকাল মঙ্গলবার সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল এবং ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। ৪ মার্চ যুক্তরাজ্য থেকে ফেরা ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত শুক্রবার হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হন। পরদিন শনিবার রাত সাড়ে ৩টায় তার মৃত্যু হয়। এরপর রবিবার দুপুরে আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ব্যবস্থাপনায় নগরীর মানিক পীর (রহ.) টিলার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে তার মুখের লালাসহ প্রয়োজনীয় উপাদান পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে আইইডিসিআর।
গতকাল ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মারা যাওয়া ওই নারীর সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষা শেষে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর জানিয়েছেন, মারা যাওয়া নারী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ছিলেন না।’
ওই নারীর মৃত্যুর পর সিলেট নগরীর শামীমাবাদের বাসা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি গ্রামের বাড়িতে তার সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্যদের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেয় প্রশাসন।
এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইতালি থেকে ফেরেন ভৈরবের জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আলমাছ মিয়ার ছেলে আবদুল খালেক। কিন্তু ফেরার পর তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকা ছাড়াও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। সর্দিজ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার দুই-তিন দিন পর গত রবিবার রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি লুবনা ফারজানা ও প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহমদের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম তার বাড়িতে যায়। পরে আবদুল খালেকের যাওয়া দুটি হাসপাতাল লকডাউন করে তারা।
পরদিন সোমবার সকালে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধিদল আবদুল খালেক ও তার স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ফিরে যায়। তার পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে ও আশপাশের ১০ বাড়িতে চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা জারি করে প্রতিরোধ কমিটি। পুলিশ প্রহরা বসানো হয় তার বাড়ির পাশে। একই দিন দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসার উপস্থিতিতে আইইডিসিআরের বিধান অনুসারে জানাজা শেষে শহরের পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আইইডিসিআরের চিঠির বরাতে গতকাল দুপুরে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহমেদ জানান, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এর আগে গত সোমবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর। এ খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।