১ লাখ পিপিই তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রাম ইপিজেডে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষায় চট্টগ্রামের পোশাক কারখানায় তৈরি হচ্ছে এক লাখ পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ঔষধ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ইপিজেডের বিশেষায়িত ও অভিজ্ঞ পোশাক কারখানা ‘স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেড’কে এসব পিপিই তৈরির কার্যাদেশ দিয়েছে। স্মার্ট গ্রুপের এই  অঙ্গ প্রতিষ্ঠানটি বিশেষায়িত পিপিই বানাতে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। এরইমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে তৈরিকৃত ৫০ হাজার সেট পিপিই’র প্রথম চালান ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব পিপিই চিকিৎসক ও নার্সরা ব্যবহার করবেন বলে জানা গেছে।    

স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান (সিআইপি) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের কার্যাদেশ পাওয়ার পরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিপিই তৈরির নির্দেশনা দিয়েছি। করোনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। সরকার এসব পিপিই তৈরি করতে আমাদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছে। কারখানার বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তৈরিকৃত এসব পিপিই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের পরিচালক শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানকে সরকার পিপিই তৈরির জন্য কার্যাদেশ দিয়েছে। পিপিই তৈরির মধ্যদিয়ে আমরাও করোনা মোকাবিলায় সরকারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত।’

স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধ অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি কার্যাদেশে তাদের এক লাখ পিপিই তৈরির আদেশ দেওয়া হয়। গত ২৪ মার্চ ওই কার্যাদেশ পেয়েই কারখানার শ্রমিকরা কাজে নেমে পড়েন। একদিনেই ৫০ হাজার পিপিই তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চের মধ্যেই বাকি সব পিপিই তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ইপিজেডের বিশেষায়িত পোশাক কারখানা স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের চতুর্থ তলার একটি ফ্লোরে পিপিই তৈরির কাজ করছে শ্রমিকরা। কাজের দেখভাল করছেন ফ্যাক্টরির বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। করোনাভাইরাস মোকাবিলার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম পরিহিত অবস্থায় শ্রমিকরা এসব পিপিই তৈরিতে কাজ করছেন। ১৩টি লাইনের আলট্রাসনিক মেশিনে পিপিইগুলো তৈরি করা হচ্ছে। কোনোরূপ সেলাই ছাড়াই তিনটি রঙের পিপিই তৈরি হচ্ছে। এ পিপিইগুলোতে কোনোরূপ পানি ঢুকবে না বা বাতাস প্রবেশ করবে না। কারখানাটিতে এখন পিপিই তৈরিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এক লাখ পিপিই বানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন প্রস্তাবটি আমরা গ্রহণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পিপিই তৈরির কাজ শুরু করি। ইতিমধ্যে ৫০ হাজার পিপিই তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ৫০ হাজার দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কাজ করতে অভিজ্ঞ। আমাদের তৈরি পিপিই আমেরিকায় রপ্তানি হয়। পিপিই তৈরির বিশেষায়িত মেশিন ও অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দ্বারা এসব পিপিই তৈরি করা হয়। একটি বিশেষায়িত ফ্লোরের ১৩টি লাইনে ৭৩০ শ্রমিক পিপিই তৈরির কাজ করছেন। নায়াগ্রা জলপ্রপাতে আমাদের কারখানার পিপিই আগেই রপ্তানি হতো। আমেরিকার একটি বায়ার আমাদের পিপিই সংগ্রহে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বুকিং দিয়ে রেখেছে। এ বুকিং বাতিল করে সরকারের আগ্রহ ও সংকটকালীন বিবেচনায় নিয়ে পিপিই প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, ‘আমরা একদিনেই ৫০ হাজার পিপিই পাঠিয়ে দিয়েছি। আরও ৫০ হাজার পিপিই প্রস্তুত হচ্ছে। আরও অর্ডারের প্রস্তাবনা পেয়েছি। সেগুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। পিপিই তৈরির জন্য কারখানায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কারখানার নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

কাজের তদারকিতে থাকা ফ্যাক্টরির কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত কাপড় থাকায় সরকারের অর্ডার পাওয়া মাত্র কাজ শুরু করতে পেরেছি। এলসি করে কিংবা বিমানে এ কাপড় আনতে গেলে অনেকদিন সময় লাগতও। এখন শিপমেন্ট বন্ধ থাকায় দ্রুত সময়ে কাজ করতে সুবিধা হয়েছে।’