চাকরিতে বদলি নতুন পরিবেশে কী করবেন

চাকরিেত বদলি অনেক সময় স্বাভাবিক ব্যাপার। বদলি মেনে নিয়ে কাজ করে যেতে হয়। নতুন পরিবেশে কী করে নিজেকে মানিয়ে নেবেন এবং কাজ করবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক সৈয়দ আখতারুজ্জামান

বদলি চাকরি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে। বড় মাপের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বদলি একটি এখন সাধারণ ব্যাপার। শুধু যে শহরের মধ্যে বদলি হচ্ছে তা নয়, দেশের মধ্যে প্রত্যন্ত জেলা শহরে, এমনকি দেশের বাইরেও বদলি হয়। নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে রইল দশ পরামর্শ।

এক. নতুন পরিবেশ। সুতরাং তাপমাত্রা থেকে শুরু করে আপনার চেয়ার-টেবিল পর্যন্ত সবই নতুন। বাহ্যিক এই পরিবর্তন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক পরিবর্তন। অনেকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে সহসা খাপ খাওয়াতে পারেন না। মনের সঙ্গে এই যুদ্ধে আপনাকে জয়ী হতে হবে।

দুই. বদলি হলে বস পাল্টে গিয়ে নতুন বস আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আবার সেই প্রথম দিনের মতো বসকে বোঝার চেষ্টা করুন। তার নির্দেশনা বোঝার চেষ্টা করুন। শুরুর দিনগুলোতে সৃষ্টিশীল না হয়ে স্রেফ নির্দেশনা অনুসরণ করে নতুন জায়গাটার হালচাল বুঝে নিন।

তিন. নতুন স্থানে পেয়ে যেতে পারেন নতুন সহকর্মীদের। এদের মধ্যেই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ভবিষ্যতের শুভাকাঙ্ক্ষীকে এবং পেয়ে যাবেন আপনার শত্রুকেও। তাই প্রথম দিনেই সবাইকে আপন ভেবে সব দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলার দরকার নেই, আবার শত্রু মনে করে এড়িয়ে যাওয়ারও দরকার নেই। মধ্যমপন্থা অবলম্বন শ্রেষ্ঠ উপায়।

চার. নতুন অফিসে থাকবে নতুন সংস্কৃতি। সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, আচরণ, পোশাক-আশাক, বিরতি, অফিস সময়, নিয়ম-কানুন, ছুটি সবই নতুন। আপনার দায়িত্ব হবে এসব উপাদানের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা এবং নতুন অফিস সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া।

পাঁচ. নতুন যে দায়িত্ব পেয়েছেন, এবার সেদিকে মনোযোগ দিন। কাজ শুরু করুন। বদলি হয়ে যোগদান করার পরপরই সব কাজে বাড়তি সতর্কতা, বাড়তি নজরদারি এবং দ্রুত শিখে নেওয়ার প্রতি জোর দেবেন। আর কাজ করবেন মাঝারি গতিতে। না বুঝে অতিদ্রুত কোনো কাজ করবেন না। আপনার নতুন দায়িত্বে শুরুতে কয়েক দিন হয়তো ততটা চাপ থাকবে না অথবা ভুলগুলো ক্ষমার চোখে দেখা হবে। এই সুযোগ কাজে লাগান। দ্রুত কাজের গতি বাড়িয়ে পুরো ফর্মে ফিরে আসুন।

ছয়. কাজে যোগ দিলেই দেখতে পাবেন ছোটখাটো অনেক কিছুই নতুন। প্রতিনিয়ত আপনার ভেতরে আগের অফিসের সঙ্গে একটা তুলনা চলতেই থাকবে। আগের বস, আগের অফিস, আগের নিয়ম-নীতি। কোথাও দেখবেন আগের চেয়ে নতুনটা ভালো, কোথাও পাবেন খারাপ। ভালোগুলোতে আনন্দিত হন, কিন্তু খারাপগুলোতে একদম ভেঙে পড়বেন না। মানসিকভাবে এই অস্বস্তির জায়গাগুলোই সামলে নিতে হয়।

সাত. যারা বিবাহিত এবং সন্তানরা স্কুলে পড়ছে, তাদের বড় সমস্যা। পরিবারসহ বদলি হওয়া আর জীবন বদলে যাওয়া একই কথা। সবকিছু আবার ঢেলে সাজাতে হয়। ভালো স্কুলে ভর্তি, টিচার, কোচিং, বাজার, হাসপাতাল_ সবকিছুই আবার গুছিয়ে নিতে হয়। অথবা পরিবার ছেড়ে একা নিঃসঙ্গ জীবন। এই পরিস্থিতি জটিল। মানসিকভাবে অবিচল ও সাহসী থাকতে হবে। সবচেয়ে সাহায্য করতে পারবে নতুন স্থানের সহকর্মীরা।

আট. শুরুর দিকের এই পারিবারিক অস্থিরতা আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী যতটা সময় বের করতে পারেন, দ্রুত পারিবারিক সমস্যাগুলো গুছিয়ে ফেলুন। ধৈর্য ধরলে আস্তে আস্তে সবটাই ঠিক হয়ে যাবে।

নয়. শুরুর দিকে নিজের কাজের পাশাপাশি অন্যদের কাজও মনোযোগ দিয়ে দেখুন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে যে গল্পগুলো হয়, সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অফিসের সহকর্মীদের, বসদের, কার্যক্রমের, অনিয়ম-দুর্নীতির, ঝুঁকি আর সমস্যা নিয়ে নানা কথা হয়। খেয়াল করুন। এখানে আপনার চলার পথ নির্ধারণের অনেক রসদ থাকবে।

দশ. সবার সঙ্গে সহজ ও সাবলীল সম্পর্ক আপনার নতুন জগৎকে দ্রুত আনন্দময় করে তুলবে। যাদের উপযুক্ত মনে করেন তাদের নিয়ে ঘরোয়া পার্টির আয়োজন করতে পারেন। যারা পার্টির বাইরে থাকবেন, তারা যেন কিছু মনে না করেন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

নতুন পরিবেশ, নতুন দায়িত্ব, নতুন চ্যালেঞ্জ সব সময়ই অনেক কিছু শেখায়। যারা আরও দক্ষ হয়ে উঠতে চান, তাদের জন্য বদলি এক বিরল সুযোগ। নিজেকেও যাচাই করা যায়। প্রতিষ্ঠানও পরখ করে নিতে পারে আগামীর পথপ্রদর্শককে। সুতরাং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রতিটি সিঁড়ি টপকে যান।