দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বকেয়া বেতনের দাবিতে রূপালী বাংলা জুট মিল শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে স্থানীয় পান দোকানি মো. সুরত আলী (৩৫) নিহতের ঘটনায় মামলায় ১১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিরল থানার এসআই আবদুল কাদের বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। তবে গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিহতের ঘটনায় কোনো মামলা করেনি নিহতের পরিবার কিংবা শ্রমিকরা। নিহত সুরত আলী বিরল পৌরসভা এলাকার হোসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
গত বুধবার রাতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিরল থানার ওসি শেখ নাসিম হাবিব জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১০-১২ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ১১০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন বিরল থানার এসআই আবদুল কাদের। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বুধবার রাতের ওই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সচিন চাকমাকে। বাকি দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হাফিজুল ইসলাম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি এটিএম গোলাম রসুল।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম ও সদস্য বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত রহমান। দুটি কমিটিই আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
গত বুধবার বিকেলে নোটিস ছাড়াই রূপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্র্তৃপক্ষ। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। মিল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা হলেও সমাধান না পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পান দোকানি সুরত আলী নিহত হয়। এই সংঘর্ষের সময় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে পুলিশ দাবি করেছে, এই ঘটনায় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।