বামজোটের বিবৃতি

করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশবাসীকে হতাশ করেছে

দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে দিকনির্দেশনাহীন বলেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাম নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশবাসীকে হতাশ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ অভিমত প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বাম জোটের নেতারা বলেন, দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল বিশ্ববাসীর থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দিকনির্দেশনামূলক ও আশ্বস্ত হওয়ার মতো বিষয় থাকবে, কিন্তু তার প্রতিফলন ভাষণে না থাকায় দেশবাসী হতাশ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও একই গালভরা কথা ‘আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে’ যা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসায় করণীয় কীভাবে বাস্তবায়ন করবে তার কিছুই ফুটে ওঠেনি এবং প্রস্তুতির জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তারও কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। করোনাভাইরাস মহামারীকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে যেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করা দরকার সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ ও স্বাচিপকে ৫০০ চিকিৎসক প্রস্তুত রাখতে বলেছেন, যা সর্বদলীয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা ও দলীয়করণের নামান্তর।

সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বাম নেতারা বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায়ই কোনো ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা নেই অথচ করোনা রোগীর শাসকষ্ট নিবারণে যা অতিআবশ্যক। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে মাত্র ২৯টি ভেন্টিলেটর রয়েছে, যা খুবই অপ্রতুল শুধু নয়, নগণ্য বটে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর বলছে, ১০০টি ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পথে, পর্যায়ক্রমে ৫০০টি করা হবে। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলো ১টি হাসপাতালে অন্তত ১০ শতাংশ ভেন্টিলেটর থাকার কথা, ন্যূনতম ৪ শতাংশ থাকতেই হবে। আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে হাসপাতালগুলোতে যে ৩১ হাজার ২২০টি বেড রয়েছে, তাতে ৩ হাজার ৫০০টি না হলেও ন্যূনতম ১২০০টি আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর থাকার কথা, সেখানে আইসিইউ আছে মাত্র ২২১টি ও ভেন্টিলেটর মাত্র ২৯টি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। যারা এর ভয়াবহতা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অবহেলা করেছে তাদের খেসারত দিতে হচ্ছে। উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন তার উদাহরণ। অন্যদিকে চীন, কিউবা, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, জাপান আগাম সতর্কতামূলক যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা করোনা মোকাবিলায় সাফল্য দেখাতে পারছে। আমাদের দেশের সরকারও শুরুতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। শুধু কথার বাগাড়ম্বর করে বলে আসছে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, করোনা সংক্রমণ যতই বাড়ছে সরকারের ঝাড়িঝুড়ি ততই উন্মোচিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে বাম জোট করোনাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে সর্বদলীয় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে এ মহামারী মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।