সারা দেশ কার্যত লকডাউন হলেও এখনো বন্ধ হয়নি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড)। ইতিমধ্যে গণপরিবহন বন্ধ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হলেও কারখানা চালু রাখায় ২৫ হাজার শ্রমিকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবহন সংকটের মধ্যে কীভাবে কর্মস্থলে যাবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন শ্রমিকরা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রশাসনও দোটানায় পড়েছেন।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সাধারণ ছুটির পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। রাস্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসমাগম কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে কারখানা চালু রেখেছে কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড)। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে কেইপিজেডের প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের। কারখানা চালুর ব্যাপারে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ এখনো অনড় থাকায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন শ্রমিকরা।
কেইপিজেডের মূল গেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাস, চাঁদের গাড়ি, অটোরিকশাসহ কয়েকশ গাড়ি করে শ্রমিকদের নিয়ে আসছেন করাখানায়। দলবেঁধে ইপিজেডের মধ্যে প্রবেশ করছেন একে অপরের গা-ঘেঁষে। ন্যূনতম দূরত্বও বজায় রাখছেন না। কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে মুখে মাস্ক পরলেও করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতার অভাব বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে। এমন জনসমাগম থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
কেইপিজেড সূত্র জানায়, কোরিয়ান ইপিজেডে চার ইউনিটের ২১টি কারখানায় বিদেশিসহ প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের সমাগম হয়। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন বা সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও কেইপিজেডে এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় কারখানা বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন শ্রমিকরা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সচল না বন্ধ ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ।
কেইপিজেডের কর্ণফুলী সু ইন্ডাস্ট্রিজের (কেএসআই) ফাতেমা নামের এক শ্রমিক জানান, কেইপিজেড কারখানাগুলোতে করোনা নিয়ে সচেতনতায় এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেই। এই শিল্পজোনে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা আসেন। এত জনসমাগমের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, একসঙ্গে অনেক লোক কাজ করছেন, দূরত্ব মেইনটেইন করছেন কি না, তাছাড়াও ওখানে বিদেশিরা কাজ করছে, তারা ঠিকমতো কোয়ারেন্টাইন মানছেন কি না। সব মিলিয়ে কেইপিজেডের শ্রমিকরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।
কেইপিজেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, কারখানা সচল বা বন্ধের বিষয়ে শনিবার (আজ) সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।