করোনায় দুই চিকিৎসকসহ আরও ৪ জন শনাক্ত

দেশে আরও চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসক। গতকাল শুক্রবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর তাদের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানায়। আইইডিসিআর আরও জানায়, গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ভাইরাসটিতে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৪৮-এ দাঁড়াল। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জন এবং মারা গেছেন ৫ জন।

এদিন অনলাইন ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে দুজন চিকিৎসক রয়েছেন, যারা করোনা আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। এদের তিনজন পূর্বের আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। অন্যজনের সংক্রমণের

উৎস জানা যায়নি। তার বিষয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘সেই ব্যক্তি আমাদের চিহ্নিত একটি ক্লাস্টার থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। চিহ্নিত সেই ক্লাস্টারের প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি কোথা থেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন, সেই  তথ্যটি এখনও আমাদের হাতে আসেনি।’ তিনি জানান, নতুন শনাক্ত হওয়া একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০-এর মধ্যে, একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০-এর মধ্যে, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে একজন এবং অন্যজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের দুজন ঢাকার বাইরে এবং দুজন ঢাকায় অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে দুজনের দীর্ঘমেয়াদি রোগ (কোমরবিডিটি) রয়েছে। তিনি আরও জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে অন্য কোনো জটিলতা নেই। এছাড়া আগে যারা আক্রান্ত ছিলেন তাদের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।

চিকিৎসকদের আক্রান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসক যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের কেউ কেউ রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ কমিউনিটির অংশ হিসেবে সংক্রমিত হয়েছেন। সব চিকিৎসক যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নয়। করোনায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই তারা যোগাযোগ করলে নমুনা সংগ্রহ করে তখনই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই বলেছি সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। যদিও এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। যেখানেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হতে পারে বলে মনে হয়েছে, সেই এরিয়াটিকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে সেখানে আমরা অ্যাকটিভলি (সক্রিয়ভাবে) রোগী খুঁজছি। আক্রান্তদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের লক্ষণ-উপসর্গ না থাকলেও তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছি।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে কল এসেছে ৩ হাজার ৪৯০টি। নতুন ১০৬ জনসহ এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ২৬ জনের। এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ ৩ হাজার পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে।

আরও তিন স্থানে নমুনা পরীক্ষা শুরু : আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু করেছে বলে দাবি করেছে আইইডিসিআর। তারা বলছে, আইইডিসিআর ছাড়াও ঢাকায় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও শিশু হাসপাতাল করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি)।

আইসোলেশনে ৪৭ জন : আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৭ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রাখা হয়েছে ১০ জনকে এবং ছাড়া পেয়েছেন ৭ জন। ছাড়া পাওয়াসহ গতকাল পর্যন্ত আইসোলেশনে নেওয়া হয় সর্বমোট ৩৩১ জনকে।

সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে ২৯৮৩৯ জন : আইইডিসিআর জানায়, বর্তমানে সারা দেশে মোট ২৯ হাজার ৮৩৯ জন কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এদের মধ্যে ১৬২ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে এবং বাকিরা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৩৫১ জনকে এবং ছাড়া পেয়েছেন ৪ হাজার ২৯১ জন। একই সময় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ২৩ জনকে এবং ছাড়া পেয়েছেন ১২ জন। ছাড়া পাওয়াসহ গতকাল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে সর্বমোট ৫০ হাজার ৫৩২ জনকে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ২০৩ জন।

২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশে করেছে ৪৪৬ জন : আইইডিসিআর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ৪৪৬ জন প্রবেশ করেছেন, যাদের প্রত্যেকের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন ৬২ জন, সমুদ্রবন্দর দিয়ে ১৮২ জন ও স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছেন ২০২ জন।