ভোগান্তিতে জ্বর সর্দি কাশি অ্যাজমায় আক্রান্তরা

রাজধানীতে বসবাসরত একজন ‘প্রভাবশালী ব্যবসায়ী’ গত বৃহস্পাতিবার রাতে জ্বর নিয়ে গুরুতর অবস্থায় পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান চিকিৎসা নিতে। তিনি ও তার পরিবারের অন্যরা নিয়মিত ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা নেন। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা করাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে অনেক বাগবিত-া হলেও হাসপাতালটি তার চিকিৎসা করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রোগী দেশ রূপান্তরকে বলেন,

‘এভাবে যদি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেশে চিকিৎসা সংকট সৃষ্টি হবে। মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে।’

গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করতে দেখা যায় এক যুবককে। গোলাম মোস্তফা নামে ওই যুবক অ্যালার্জিজনিত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমার বাসা মোহাম্মদপুরে। অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে। তাই প্রায়ই আমার শ্বাসকষ্ট হয়। গতকাল এটা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে এসেছি। তারা রোগের ধরন শুনে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করতে বলেছে।’

গতকাল প্রায় একই দৃশ্য দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা তালহা জোবায়ের জানান, তার স্ত্রী গত দুই সপ্তাহ ধরে জ্বরসহ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে তারা আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অনেক চেষ্টায় আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেও তারা তাকে দেখতে আসেনি। কেবল কিছু ওষুধের কথা বলে দিয়েছে। এখনো অসুস্থ তার স্ত্রী। তালহা বলেন, ‘সরকারের উচিত, সর্দি-কাশি বা জ্বরের রোগীর জন্য আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা বা প্রত্যেক রোগীকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখে আসা। অন্যথায় এই সীমাহীন কষ্ট জীবনকে আরও দুর্বিসহ করে তুলবে।’

যেখানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের প্রবেশ পথেই সর্দি-জ্বরের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের নির্দেশনা দেওয়া আছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই সার্ভিসের সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো চিকিৎসা করানো হয় না। কেবল করণীয় বলে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মতো গতকাল একই চিত্র পাওয়া গেছে রাজধানীর অনেক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসকরাই করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত। সর্দি-কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ রোগীকেও তারা চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। হাসপাতালগুলোর বাড়তি সতর্কতায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা প্রকট। করোনা শনাক্তের জন্য কোনো কিটের ব্যবস্থা নেই। তাহলে আমরা কীভাবে বুঝব করোনা আছে কি নেই। অনেকের ব্যক্তিগত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেই। যদি কোনো রোগীকে আমাদের সন্দেহ হয়, তবে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিই। তবে আমরা অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়–য়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট হাসপাতালের বাইরে করোনা উপসর্গ আছেÑএমন রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই কেবল তাদের করণীয় বলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক হাসপাতাল তো সেটাও করছে না। আসলেই এ সমস্যা চিকিৎসা খাতের জন্য একটি খারাপ বিষয়। কিন্তু সবার নিরাপত্তার বিষয়েও ভাবতে হবে। জ্বর, সর্দি-কাশি হলে রোগীরা হাসপাতালে না এসে সরাসরি আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাহলেই সেবা পাবেন।