বিশ^জুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি এখনো। পাগলা ঘোড়ার মতো বেপরোয়া রোগটির সংক্রমণে লাগাম পরাতে লকডাউন বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাই একমাত্র ভরসা। সে কারণেই বিশে^র বেশির ভাগ দেশই নিয়েছে এই পদক্ষেপ। সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘সোশ্যাল ডিসটেন্সিং’ বা ‘সামাজিক দূরত্ব’ (পড়–ন শারীরিক দূরত্ব) মেনে চলছেন নাগরিকরা। বিষয়টি আরও কার্যকর করতে উদ্যোগ নিয়েছে নানা প্রতিষ্ঠানও। তবে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং ব্যাপারটি বোঝাতে বিশে^র নামিদামি কয়েকটি কোম্পানি প্রচারে এনেছে অভিনবত্ব। বিষয়টি বোঝাতে তারা নিজেদের লোগোই বদলে ফেলেছে। সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কালে বহুজাতিক কোম্পানির লোগোগুলোও এখন ‘সোশ্যাল ডিসটেন্সিং’ বা ‘সামাজিক দূরত্ব’ মেনে চলছে। বার্গার চেইন ম্যাকডোনাল্ড, কোকা-কোলা, গাড়ি নির্মাতা অদি, ভক্সওয়াগনসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি তাদের লোগোর অক্ষর বা চিহ্নগুলো একটির থেকে আরেকটি বিচ্ছিন্ন করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।
ম্যাকডোনাল্ড তার লোগোর ‘এম’ আকৃতিকে দুটি অংশে আলাদা করে খানিকটা দূরে সরিয়ে দিয়ে বুঝিয়েছে ‘সোশ্যাল ডিসটেন্সিং’-এর গুরুত্ব। গত সপ্তাহে ম্যাকডোনাল্ডস ব্রাজিল লোগোর এ পরিবর্তন দেখিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বিষয়ে প্রচারণাও চালিয়েছে। লোগোর পরিবর্তনের সঙ্গে একটি বার্তাও জুড়ে দিয়েছে তারা। যাতে লেখা রয়েছে, ‘সব সময়ের জন্য
একসঙ্গে থাকতেই কিছু সময় আলাদা থাকা।’ ম্যাকডোনাল্ডস ইন্ডিয়াও ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ব্রাজিল শাখার পদাঙ্ক অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। পোস্টের সঙ্গে তারা লিখেছে, ‘সামান্য দূরত্বই অনেক পথ নিয়ে যেতে পারে। ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন।’
কোকা-কোলাও তার লোগোর পরিবর্তন করেছে। সবগুলো অক্ষর একসঙ্গে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে ইংরেজিতে কোকা-কোলা বিচ্ছিন্নভাবেই লিখেছে। সঙ্গে লেখা হয়েছে, বিচ্ছিন্ন থাকাই সবচেয়ে ভালোভাবে একসঙ্গে থাকা। অদি লোগার চারটি জোড়া লাগানো বৃত্ত এখন সমান দূরত্ব রেখে আলাদাভাবে দেখানো হচ্ছে। ভক্সওয়াগনও ভি আর ডব্লিউকে আলাদা করে লিখেছে সামাজিক দূরত্বের গুরুত্ব বোঝাতে।