বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলটির নির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া (৬০) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। গত বছর ৩ জানুয়ারি ব্রেইন স্ট্রোকের পর তাকে রাজধানীর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও নেওয়া হয়। এরপর অসুস্থতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড ও আইন পেশায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ মিয়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সানাউল্লাহ মিয়া রাত ৯টার কিছু আগে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নরসিংদীর শিবপুরে জন্মগ্রহণকারী সানাউল্লাহ মিয়া স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
সানাউল্লাহ মিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলাদা বিবৃতিতে শোকপ্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে আইনজীবীসহ নেতাকর্মীরা ছুটে যান। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার মরদেহ শিবপুরে নিয়ে দাফন করা হবে।
সানাউল্লাহ মিয়ার বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাবার শরীর প্রচণ্ড খারাপ হলে তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে ছিলেন। পরে প্রচণ্ড খিঁচুনি ওঠায় তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার চিকিৎসকরা জানান, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।’
প্রায় তিন যুগ ধরে আইন পেশার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সানাউল্লাহ মিয়া জরুরি অবস্থার সময়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে তাদের কাছে ‘দুর্দিনের সঙ্গী’ হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৭৯ সালে ঢাকা সিটি কলেজে ল পড়ার সময়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন। ১৯৮২ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ১৯৮৩ সালে তাকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য করা হয়। ১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ আইনজীবী হওয়ার পর ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের সহ-আইন সম্পাদক ছিলেন তিনি।
১৯৯৩ সালে মহানগরের আইন সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় সানাউল্লাহ মিয়াকে। ১৯৯১ সালে তিন মাসের জন্য ঢাকা জজ কোর্টে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) করা হয় তাকে। তখন তার দায়িত্ব ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা। দলের জন্য আইন অঙ্গনে ও রাজপথে সক্রিয় সানাউল্লাহ মিয়া নিজ এলাকা নরসিংদী-৩ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন