করোনাভাইরাস আতঙ্কে গত মঙ্গলবার থেকে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে গত বুধবার দুপুরে দেখা গেছে, বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার, চিকিৎসকদের কক্ষ এবং ফার্মেসির দরজা ও জানালা বন্ধ। জরুরি বিভাগের পাশে ‘এই কক্ষে শুধুমাত্র কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, জ্বরের রোগী দেখা হয়’ লেখা কক্ষটিও ছিল বন্ধ। এছাড়া হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে (০১৭৩০-৩২৪৮০৬) কল করলেও কেউ রিসিভ করেননি। ফলে চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এদিকে গত রবিবার বিদেশফেরত এক অসুস্থ নারী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহফুজার রহমানের সঙ্গে দেখা করে অসুস্থতার কথা জানান। এরপর থেকে ডা. মাহফুজার রহমান হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের আগে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে সহস্রাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। বর্তমানে বহির্বিভাগ বন্ধ রেখে শুধু জরুরি বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনা, মারামারি ও ডায়রিয়াসহ জরুরি রোগীদের ভর্তি রাখা হচ্ছে।
বহির্বিভাগের টিকিটবিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে কম রোগী আসছেন। যে কয়েকজন আসেন তাদের জরুরি বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’ তবে তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করেন।
গত বুধবার দুপুরে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসা ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জ্বরের চিকিৎসা যদি
হাসপাতালে না হয় তাহলে কোথায় হবে?’ হাত ভেঙে যাওয়া সত্তরোর্ধ্ব আরেক বৃদ্ধ বলেন, ‘হাসপাতালে এসেছিলাম ওষুধ নিতে। এসে শুনি ওষুধ নাকি দেওয়া হয় না। দোকান থেকে অল্প ওষুধ কিনে নিয়ে যেতে হবে।’
পৌর এলাকার সুখনগরের ইব্রাহীম বলেন, ‘দুদিন থেকে জ্বর ও কাশিতে ভুগছি। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনের পরামর্শক্রমে এসেছি জানালে চিকিৎসা দেন ওই চিকিৎসক। রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরে করতে হয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। দোকান থেকে ওষুধও কিনতে হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে বিড়ম্বনা ও অর্থব্যয়ের শিকার হলাম।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দাবি করেন, ‘হাসপাতালের বহির্বিভাগে মানুষের ভিড় কমাতে রোগী দেখা বন্ধ রাখা হয়েছে। হাসপাতালে গেলে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ছাড়া কাউকে দেখতে পাওয়া যায় না। মোবাইলে কল করে চিকিৎসকদের ডেকে আনতে হয়।’