প্রয়োজন সমন্বিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ

করোনার করাল গ্রাসে বিশ্ব আজ অবরুদ্ধ, বাংলাদেশও তার বাইরে না।  কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় অবস্থা এই মুহূর্তে ভালো; এখানে আক্রান্তের ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো হাতেগোনা। যদিও সমালোচকরা বলে থাকেন যে, অনেক আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তি চিহ্নিত না হওয়ায় সংখ্যার এই অধোগতি। সে যাই হোক, আমরা যদি দেশের উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষের অনুমোদিত সংখ্যাও বিবেচনায় নিই, তাহলেও আত্মপ্রসাদের কোনো কারণ নেই; সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর যদি দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিই, তাহলে বলতে হবে যে, আমরা এক বিস্ফোরণোন্মুখ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বসে আছি। সর্বশক্তি দিয়ে এখনই এটাকে মোকাবিলা করতে না পারলে আমাদের জীবন, অর্থনীতি ও সমাজ এক ফুঁৎকারে বিপন্ন হয়ে যেতে পারে।

কভিড-১৯ রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে; রোগীর হাঁচি-কাশির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কণার মাধ্যমেও এটা ছড়ায়, বড় বড় ফোঁটা বা বিন্দুর কথা নাই বা বললাম। রোগটি দেশজ নয়, বাইরে থেকে আসা। প্রবাসী বা বিদেশ ভ্রমণকারীরা এই রোগ এদেশে আমদানি করেছেন বা এখনো করে চলেছেন। বিগত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনা কার্যালয় প্রথম যখন চীনের উহান নগরীতে এই অজানা রাজমুকুট মার্কা ভাইরাসের তৎপরতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়, তারপর থেকে বিশ্বের অনেক দেশ এই ভাইরাসবাহী ভ্রমণকারীদের শনাক্তকরণ ও বিচ্ছিন্নকরণের ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে। বাংলাদেশও বিমান বন্দরে চীন থেকে আসা ভ্রমণকারীদের, বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের এই ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়, তাদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা বাতিল করে।  এর কয়েক দিন পর এই একপেশে পরীক্ষা ব্যবস্থার অসারতা নিয়ে ঢাকার চীনা রাষ্ট্রদূত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এরপরই কেবল সব ভ্রমণকারীর পরীক্ষা শুরু হয়। এই পরীক্ষায় যাদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাদের গুরুত্বভেদে পৃথককরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং বাকিদের নিজ বাড়িতে অন্যূন চৌদ্দ দিন স্বেচ্ছাধীন কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্তে বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন দেখা যাচ্ছে যে, দেশে যতগুলো কেইস শনাক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশের বাহক হয় প্রবাসী বা ভ্রমণকারী নিজে অথবা তার সাহচর্যে আসা লোকজন। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, বিমানবন্দরের পরীক্ষা বা স্বেচ্ছাধীন কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা আদৌ নিিদ্র নয়। অথচ এই রোগের বিচ্ছিন্নকরণ ও কোয়ারেন্টাইন ছাড়া বর্তমানে অন্য কোনো চিকিৎসা নেই।

পত্রিকায় দেখলাম এখনো প্রতিদিন গড়ে সাত হাজার করে প্রবাসী দেশে ফিরে আসছেন। এই হারে বিগত আড়াই মাসে পাঁচ লাখেরও বেশি প্রবাসী দেশে এসেছেন। এদের মধ্যে এক শতাংশও যদি ভাইরাস বাহক থাকেন, তবে তার সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ হাজারের বেশি। বর্তমানে এই ভাইরাসের বাহক প্রতি সংক্রমণের হার ১: ২.৫। অর্থাৎ এরা দ্বিতীয় পর্যায়ে অন্তত সাড়ে বারো হাজার মানুষের মাঝে সংক্রমণ ঘটাবে। এটা যদি তৃতীয় পর্যায়ে জ্যামিতিক হারে বাড়ার ক্ষেত্র আমরা প্রস্তুত করে দিই, তাহলে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে, তা অকল্পনীয়। ঘন-বসতিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যবিধি পালনে চরম উদাসীন এই সমাজে নিঃসন্দেহে সংক্রমণের হার আরও বেশি হবে। আমরা দেশ ও সমাজের মঙ্গল তো দূরের কথা, নিজের মঙ্গলও বুঝি না। মধ্যযুগে প্লেগে আক্রান্ত জাহাজ চল্লিশ দিন বিচ্ছিন্ন করে রাখার ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ভেনিসীয় শব্দ ‘quarantena’ থেকে বর্তমানে ‘qurantine’ শব্দের উৎপত্তি। বৃহত্তর স্বার্থে ঐ যুগে তারা চল্লিশ দিন অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে পেরেছেন, অথচ আমরা পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং দেশ ও দশের কথা চিন্তা না করে মাত্র চৌদ্দ দিনের কোয়ারেন্টাইন থেকে পলায়ন করি বা তার নিয়মকানুন অবহেলা করি। এটা আত্মপ্রবঞ্চনার এক প্রকৃষ্ট নিদর্শন।  আর স্বাস্থ্যবিধি পালন ও হাঁচি-কাশি নিয়ে আমাদের যে সংস্কৃতি তার সাক্ষাৎ কোনো সভ্য সমাজে মেলা ভার। কথা বলতে যার থুতু বের হয়, তিনি ঘাড়ের ওপর এসে হাঁক ছাড়েন, জনসমক্ষে কেউ কেউ  নাকের-কানের ময়লা বের করে হাতে গুটলি পাকান, কেউ আবার নিরুদ্বেগে ভরা হাটে হাঁচি-কাশির তাণ্ডবে বাতাসে ঘূর্ণিঝড় তোলেন; হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার পালনের কোনো বালাই সেখানে নেই। অধিক জন-ঘনত্ব এই সব দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটেই আমাদের প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিগত ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক কভিড-১৯কে পৃথিবীব্যাপী মহামারী রূপে ঘোষণা করার সময় কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।  যেমন তিনি চিহ্নিতকরণ, পরীক্ষাকরণ, বিচ্ছিন্নকরণ, পথচিহ্ন নির্দিষ্টকরণ ও সম্পদ সংহতিকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন জরুরি ও আক্রমণাত্মক কার্যক্রম নিতে। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশ আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা লক্ষণীয়ভাবে সফলতা পেয়েছে; অথচ ইউরোপ ও আমেরিকার উন্নত দেশগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে দায়সারা গোছের ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন এই মারণব্যাধির উপকেন্দ্র চীন থেকে ইউরোপে স্থানান্তরিত হয়ে গেছে। বিগত ডিসেম্বরে চীনে এই রোগ দেখা দেওয়ার পর ১৩ জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড, ১৫ জানুয়ারি জাপান এবং ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।  ১১৪টি দেশের ১,১৮,৩১৯ জন মানুষের মধ্যে এই ব্যাধির বিস্তার ঘটার পর বিগত ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক একে পৃথিবীব্যাপী মহামারী রূপে আখ্যা দেন। 

কভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রথম পর্যায়ে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা ও অপর্যাপ্ততা ছিল। যেমন আক্রান্ত দেশগুলো থেকে যখন প্রবাসীরা দেশে ফেরা শুরু করল, তখন গুরুত্ব দিয়ে সেটা নিরোধ করা হয়নি, যারা পৌঁছে গেল তাদের যথাযথভাবে পরীক্ষার বা কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়নি, যাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলো তাদের তেমন পরিধারণ করা হয়নি। সব চেয়ে বড় অপর্যাপ্ততা ছিল পরীক্ষার কিট ও চিকিৎসক এবং নার্সদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পিপিই ব্যবস্থা না থাকা। অথচ হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও এসব সাজসরঞ্জামের অভাব হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি বেড়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে যে, আগে থেকে সজাগ হলে এগুলোর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কিছু রপ্তানিও করা যেত। কথায় আছে না- ‘ঊাবৎু পষড়ঁফ যধং ধ ংরষাবৎ ষরহরহম.’ আসলে সব দুর্যোগের মধ্যেই দক্ষতা থাকলে সুযোগ খুঁজে নেওয়া যায়। সেটা করতে পারলে আমরা ভুগব কম, আর এগুবো বেশি।   

যাহোক, এখন যে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোকে কিছুটা আক্রমণাত্মক বলা যায়, তবে অনেক পদক্ষেপই খাপছাড়া ও সমন্বয়হীন। তাছাড়া এর সামগ্রিক ও ব্যাপক ভয়াবহতা এবং গুরুত্ব বুঝিয়ে জনসাধারণকে প্রতিরোধ কাজে সম্পৃক্ত করার পদক্ষেপ তেমনটা লক্ষ করা যাচ্ছে না। অথচ বোঝাতে পারলে তারাই ‘ভ্যান গার্ড’ হিসেবে কাজ করত, যেটা হতো বেশি কার্যকর।  আবার ১০ দিনের যে ছুটি ঘোষণা করা হলো, তার উদ্দেশ্য ভালোভাবে আগেভাগে খোলাসা না করায় মানুষের মাঝে সতর্কতার চেয়ে ছুটির আমেজ এনে দিয়েছে। এখন বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের পরিধারণ করা হচ্ছে, জেল-জরিমানা করা হচ্ছে, কিছু কিছু সন্দেহপ্রবন এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে, মসজিদে না এসে বাড়িতে নামাজ পড়তে বলা হচ্ছে, সভা-সমাবেশ ও গণ-জমায়েত এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। সব চেয়ে বড় যে কাজটা সরকার করছে, তা হলো চীনের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময়। আমাদের উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় অংশীদার এই দেশটি যেভাবে অতিদ্রুততার সঙ্গে এই অজানা শত্রুকে বাগে এনেছে, তা সারা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। চীন আমাদের নানা সাজসরঞ্জাম ও ওষুধপত্র দিয়েও সাহায্য করছে। বিদেশ ভ্রমণে অনুরক্ত আমলা ও পেশাজীবীদের একটি দলকে এখনই চীনে পাঠিয়ে তাদের সফলতার গূঢ় রহস্য জেনে আসা দরকার যেটা আমরা এখন কাজে লাগাতে পারি। 

তবে আমাদের স্বভাবের সঙ্গে এসব নির্দেশ পালন কতটা সংগতিপূর্ণ সেটা একটা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন বটে। এই অবস্থায় হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি; গ্রামেগঞ্জে এই দানবের ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।  আশার কথা এই যে, মানুষকে ঘরবন্দি রাখা এবং আইন মেনে চলার কাজে প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। এদেশের মানুষ সেনাবাহিনীর নির্দেশ ভালোই মানে। জরুরি ও আক্রমণাত্মক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে যে কিছুটা জবরদস্তি প্রয়োজন হয়, তার প্রয়োগ সেনাবাহিনীর পক্ষেই সম্ভব। 

আর শাসক দলের কর্মীদের বলব যে, এই ‘মুজিববর্ষে’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া আর কোনো বড় উদযাপন হতে পারে না।  ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায় যে দাঙ্গা শুরু হয়, তাতে অনেক হিন্দু-মুসলমানের প্রাণহানি ঘটে। এই সময় আটকেপড়া লোকজনদের মুখের গ্রাস জোগাড় করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজে সহকর্মী নুরুদ্দিন ও নুরুল হুদার সহযোগে ঠেলাগাড়ি ঠেলে বেকার হোস্টেল, ইলিয়ট হোস্টেলে চাল নিয়ে আসেন। তখন মুসলিম লীগের কর্মী হিসেবে কাজ করলেও অনেক হিন্দু পরিবারকে বিপদ মাথায় নিয়ে বেকার হোস্টেল এরিয়া থেকে সুরেন ব্যানার্জি রোডে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেন। দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত বিহার ও পাটনা থেকে আগত মোহাজিরদের সেবা দানের জন্য আসানসোল যান। সেখানে যে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়, তিনি তার নাম দেন ‘হিজরত গঞ্জ’। সেখানে মোহাজিররা যা খেতেন, তিনিও তাই খেতেন। বর্তমানের এই মহাদুর্যোগে মহান এই নেতার মানবিক আদর্শ নিয়ে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতে পারলে তার আত্মা বেশি শান্তি পাবে। 

তবে করোনার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মোচনে অনেক কাজ সরকারকে করতে হবে। যখন থেকে ভিড় এড়িয়ে চলার আহ্বান আসে তখন থেকেই স্বল্প আয়ের মানুষের আয়-রোজগার কমতে থাকে। করোনার কারসাজিতে দেশের বিভিন্ন খাতে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এডিবি প্রাথমিক একটি মূল্যায়ন করে জানায় যে, এতে বাংলাদেশের জিডিপিতে পঁচিশ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে; এক বছরে কর্মসংস্থানই কমে যাবে নয় লাখ। অথচ বর্তমানে বেকার ও ছদ্ম বেকারের সংখ্যা প্রায় সাতাশ লাখ, প্রতি বছর শ্রম বাজারে প্রবেশ করে প্রায় ষোল লাখ লোক। আগে বছরে পাঁচ ছয় লাখ লোক বিদেশে কাজ পেত, এখন উল্টো বিদেশ থেকে প্রবাসীরা দলে দলে ঘরে ফিরছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা নানা দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরছেন।  সরকারও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনার এক প্যাকেজ হাজিরও করেছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের স্বল্প আয়ের লোকজনের জন্য এই মুহূর্তে কীভাবে সম্পূরক আয়ের ব্যবস্থা করে করোনাবিরোধী অভিযানে তাদের সক্রিয় সহযোগিতা আদায় করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে অতি দ্রুতগতিতে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা ও পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করোনাবিরোধী অভিযান যেমন সার্থক হবে, অর্থনীতি যেমন উপকৃত হবে, তেমনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবার তলানিতে নেমে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাও দূর হবে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়ে দারিদ্র্য বিমোচন কম গুরুত্বপূর্ণ নয়; সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন।

লেখক

খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক

rulhanpasha@gmail.com