পাহাড়ে হাম উপদ্রুত এলাকায় জরুরি সহায়তার আহ্বান

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়ন এবং বান্দরবানের লামা উপজেলার লামা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’ ও ‘কাপেং ফাউন্ডেশন’। গতকাল শনিবার সংগঠন দুটি এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তারও আহ্বান জানায়।

আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরও বেশি এগিয়ে আসা জরুরি উল্লেখ করে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে চারটি আহ্বানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হলো মেডিকেল বোর্ড গঠন করে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক, নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। পাহাড়ে হাম উপদ্রুত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা। আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘করোনা মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের তৎপরতা ও যেভাবে সবার মনোযোগ পেয়েছে নিঃসন্দেহে তা ভালো ফলাফল এনে দেবে। কিন্তু করোনার ডামাডোলে পার্বত্য অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব কর্র্তৃপক্ষের চোখের আড়ালে থাকবে কি না তাও বিবেচনায় নিতে হবে। সেজন্য এটিকে যথেষ্ট আমলে নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুনজর এবং সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এ প্রাকৃতিক মহামারী প্রায় মাসখানেক পূর্বেই দেখা দেয় এবং কমপক্ষে ৩০০ শিশু আক্রান্ত হয় ও ৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। এমতাবস্থায় সেখানকার অধিবাসীরা যথেষ্ট উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছে ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে সে অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবার করুণ অবস্থাকে প্রতিফলিত করে। বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায়ও হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাজেকে মোট ৬টি গ্রামের প্রায় ২৫০ জন হামে আক্রান্ত হয় এবং তাদের অধিকাংশই শিশু। তুইছুই মৌজার অরুণপাড়া সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ২০ দিনের ব্যবধানে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত অন্য গ্রামগুলো হচ্ছে লংথিয়ানপাড়া, কমলাপুর চাকমাপাড়া, নিউথাং/নতুনপাড়া, হাইচ্যাপাড়া ইত্যাদি। কমপক্ষে ১০০ শিশু এবং ৭-৮ বছরের বয়সীরা বেশি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, তাদের গ্রামে শিশুদের এ যাবত কোনো টিকাই দেওয়া হয়নি। সরকারের কোনো স্বাস্থ্যসেবাও সেখানে পৌঁছায়নি। কোনো স্বাস্থ্যকর্মী তাদের এলাকায় পা দেয়নি। ম্রো অধ্যুষিত লাল্যাপাড়ায় ৪ মাসের এক শিশু মারা গেছে এবং ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩ জন শিশু। সরকারের ঘরে ঘরে টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মাঝে পৌঁছালে এ রকম প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি হতো না। দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে এতগুলো প্রাণ ঝরে যেত না। একবিংশ শতাব্দীতে হামে মৃত্যুবরণ কল্পনাই করা যায় না।