দেশে গত দুদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন কোনো রোগী পায়নি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর। আক্রান্ত কোনো রোগী এ সময়ে মারা যাননি বলেও গতকাল রবিবার প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। আইইডিসিআর আরও জানায়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা আগের মতোই ৪৮ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৫ জন।
এদিন অনলাইন ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে কল এসেছে ২ হাজার ৭২৬টি। এর সবই কভিড-১৯ সংক্রান্ত। এ সময়ের মধ্যে আইইডিসিআর, মহাখালীর জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড
ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) মিলে নমুনা পরীক্ষা করেছে মোট ১০৯ জনের। পরীক্ষায় তাদের কারও দেহেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।
আইইডিসিআর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছে ৯ জন। এ নিয়ে আইসোলেশনে আছে ৫৬ জন। এছাড়া বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১৪২ ও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ২৮ হাজার ৩৪১ জন।
৭১০ চিকিৎসক ও ৪৩ নার্সকে প্রশিক্ষণ : প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম শাখার কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের লাইন ডিরেক্টর হাবিবুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে ৭১০ চিকিৎসক ও ৪৩ জন নার্সকে কভিড-১৯ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন দেশের ৬৪টি জেলার সদর হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার এবং ঢাকার যেসব হাসপাতালকে কভিড-১৯-এর জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে সেগুলোর চিকিৎসক। এছাড়া দেশের প্রত্যেকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা আজকে (রবিবার) থেকেই তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এবং যেখানে সন্দেহজনক কভিড-১৯ রোগী পাওয়া যাবে তাদের বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন। এরপর যেখানে নমুনা পরীক্ষা করা হয়, সেখানে প্রেরণ করবেন।’ তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কভিড-১৯-এর লক্ষণ দেখা দিলে কেউ যেন সরাসরি হাসপাতালে চলে না যান। কারণ তাদের মাধ্যমে হাসপাতালের অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারা স্বাস্থ্য বাতায়নের-১৬২৬৩ ও ৩৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করলে তাদের তত্ত্বাবধানেই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের টেকনোলজিস্টদের বাড়িতে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।