কুমিল্লায় প্রাইভেট ক্লিনিকেও বসছেন না চিকিৎসকরা

করোনাভাইরাস আতঙ্কে বদলে গেছে কুমিল্লার চিকিৎসাসেবার চিত্র। হাসপাতালগুলোতে আগের মতো রোগী আসছে না। আতঙ্কে রোগী দেখছেন না চিকিৎসকরাও। ছুটি বাতিল হওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি থাকলেও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত হতে দেখা গেছে তাদের। একই অবস্থা জেলা সদর ও উপজেলার বেসরকারি-প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতেও। গতকাল রবিবার শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, প্রাইভেট হাসপাতাল ও আলাদাভাবে চেম্বার করা চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন না। ক্লিনিক ও চেম্বারেও আসছেন না তারা। করোনাভাইরাস আতঙ্কে ফাঁকা হয়ে গেছে সরকারি ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষজন প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসকদের না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। করোনা ভয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়িতে অবস্থান করছেন আতঙ্কগ্রস্ত চিকিৎসকরা। নানা রোগে

ভোগা মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

জানা যায়, করোনাভীতিতে যারা চিকিৎসাসেবা দেবেন সেই চিকিৎসক এবং নার্সরাও সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) অভাবে রোগী দেখছেন না। কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও একই অবস্থার কথা শোনা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো রোগীতে ভরা থাকত সেগুলো এখন রোগীশূন্য। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোর্ট, লাকসাম ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের করোনাভীতি দেখিয়ে হাসপাতালে আসা, চিকিৎসা নেওয়া ও হাসপাতালে ভর্তি থাকাতে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরকম অবস্থায় উপজেলাগুলোতে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তারাও হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে চলে গেছেন।

চল্লিশোর্ধ মাহাবুব হোসেন রবিবার সকালে ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিঠে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এলে বাড়িতে থেকে মোবাইলে চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে তাকে বিদায় করে দেন হাসপাতালের এক কর্মী।

চিকিৎসকদের পিপিই ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার ডাক্তাররা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া নিয়ে ভীতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। পিপিই না থাকায় ওটি গাউন, গ্লাভস ও মাস্ক পরে কাজ করতে দেখা গেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সদের।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারের উপস্থিতি থাকলেও কমেছে রোগীর সংখ্যা। কুমিল্লার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কুমেক ৫শ বেড) ও একশ বেডের সরকারি সদর হাসপাতাল। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে আড়াই থেকে তিন হাজার বিভিন্ন বয়সের মানুষ টিকিট কেটে ডাক্তার দেখাত এখন সেখানে দুইশ রোগী হচ্ছে। বৃহৎ এ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ১১শ রোগী ভর্তি থাকত এখন চিকিৎসা নিচ্ছে দুই থেকে আড়াইশ জন। হাসপাতালে কর্মরত তিনশ চিকিৎসক নিয়মিত এবং সময়মতোই হাসপাতালে অফিস করছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান। তিনি আরও বলেন, সারা দেশের মতো কুমিল্লায়ও করোনাভীতিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। আমাদের সব ডাক্তার নিয়মিত রয়েছেন এবং হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবাও দিচ্ছেন। তবে গণপরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকার কারণে রোগীর সংখ্যা কমেছে বলে জানান তিনি।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, চিকিৎসকরা এখন করোনা নিয়ে কাজ করছেন, হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি কারোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছেন তারা। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি ও প্রাইভেট ক্লিনিকের সব ডাক্তার নিয়মিত রোগী দেখবেন।

কুমিল্লা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসিম জানান, কুমিল্লা বিএমএর সদস্য ১৩শ এবং অন্যান্য ডাক্তারসহ কুমিল্লায় ১৫শ ডাক্তার রয়েছেন। এর মধ্যে ৮শ সরকারি ও বাকিরা প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জন অফিস, কুমিল্লা বিএমএ ও স্বাচিপ সমন্বয় করে কুমিল্লার চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।