করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে খুলনা জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলো প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে সম্পªতি কয়েকজনের মৃত্যুর পর রোগীরা হাসপাতালগুলো ছাড়ছেন। উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন। তবে সে সেবা মিলছে না সব সময়।
জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে খুমেক হাসপাতালে প্রায় দেড় হাজার ভর্তি রোগী ভর্তি থাকে। সেখানে ২৫ মার্চ ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৮০। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে এখন অর্ধেক বেডই খালি। আর ২৬ মার্চ এক রোগীর মৃত্যুর হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা হয়েছিল করোনায় তিনি মারা গেছেন। তবে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েনি। ওই ঘটনার পর ২৭ মার্চ পুরো হাসপাতালই প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়ে। এ খবর উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে উপজেলা হাসপাতালগুলো থেকে রোগী বাড়িতে চলে যাচ্ছে।
উপজেলার কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, করোনা সন্দেহে অনেকে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে এলেও তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ভর্তি করে রাখা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর ভয়ে অনেক ভর্তি রোগী চলে যাচ্ছে। অনেকে এই রোগ ছড়ানোর ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে না। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে বসে সেই মুঠোফোন নম্বরগুলোতে কল করে চিকিৎসা নেওয়া যাবে। কিন্তু সব সময় ফোনে সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো ব্যস্ত পাওয়া যাচ্ছে। আবার কখনো চিকিৎসক দু-একটি উপসর্গের কথা শুনেই চিকিৎসা দিয়ে দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বাড়ির আশপাশে বাজারের ওষুধের দোকান থেকে উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ কিনে খাচ্ছে রোগীরা।
কয়রার আমাদি গ্রামের হাসাসুর রহমান বলেন, ‘বউডার পেটে ব্যথা, ফোনে কল করলি তা খালি ব্যস্ত দেহালে পরে বাজার এক দোকানেরতে ঔসুদ (ওষুধ) কিনে খাওয়ায় সারে গেছে। এই নম্বর দিয়ে কী হবে।’
পাইকগাছা উপজেলার নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মোসলেম বলেন, ‘ফোন দিলাম ডাক্তারের কাছে। সব না শুনে ঔসুদ দিয়ে দেয়। তাতে ভালো কাজ হচ্ছে না। যদি করোনা হয় তাই হাসপাতালেও যাচ্ছি নে।’
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদীপ বালা বলেন, ‘অহেতুক মানুষ একটু সমস্যা হলেই ফোনে বিরক্ত করছে। তখন ফোন ব্যস্ত করে রাখতে হচ্ছে। তা ছাড়া একটি ফোনে কথা বলছি, তখন আরেকটি ফোন চলে এলে তো ব্যস্ত দেখাবে। এ ড়্গেত্রে বারবার চেষ্টা করতে হবে।’
খুলনার সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির হার ৩০ ভাগে নেমে এসেছে। এখন করোনার প্রভাবের কারণে অন্যান্য রোগী হাসপাতালে আসছেন না। তবে ফোনে পরামর্শ গ্রহণের হার বেড়েছে।
ফোন না ধরা ও ব্যস্ত দেখানো এবং রোগীদের সম্পূর্ণ কথা না শোনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ফোন না ধরার প্রশ্নই ওঠে না। আর যদি ব্যস্ত থাকে তাহলে তো করার কিছু নেই। চিকিৎসকরা যাতে রোগীর সব কথা শোনেন, সে ব্যাপারে বলে দিচ্ছি।’