চাল চুরির অভিযোগ করায় সাংবাদিককে নির্যাতনের মামলায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জসিম হায়দারের ছেলে নাবিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক সাগর চৌধুরী বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নাবিলসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। সাগর চৌধুরী স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ডব্লিউ ৩৬০ ডিগ্রির সম্পাদক ও প্রকাশক।
চাল চুরির অভিযোগ আনায় সাংবাদিক সাগর চৌধুরীকে অমানুষিক নির্যাতন করেন ইউপি চেয়ারম্যান জসিম হায়দারের ছোট ছেলে নাবিল হায়দার। ক্ষোভ মেটাতে ওই সাংবাদিককে মোবাইল চোর ও ছিনতাইকারী অপবাদ দিয়ে পেটানো হয়। পরে ওই নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর ওই সাংবাদিকের বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। গত মঙ্গলবার সকালে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরের রাজমণি সিনেমা হলের সামনে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সাগর চৌধুরী বলেন, ‘আজ সকাল ৬টায় নাবিল আমাকে ফোন করে বলে আপনার সঙ্গে জরুরি কথা আছে, একটু আসেন। তখন আমি বলি, এত সকালে আমি কীভাবে আসব। এরপরও আমি সেখানে গেলে, সিনেমা হলের দোতলায় আমাকে ডেকে নেয় সে। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। আমি দোতলা থেকে নিচের দিকে নেমে আসতে চাই। তখন সে পেছন থেকে আমার কলার চেপে ধরে এবং আঘাত করে। আমার চোখে আঘাত করে চোখ নষ্ট করে দেওয়ার জন্য। মাথার অনেক জায়গায় আঘাত করে। মাথাটা ফুলে গেছে। আমাকে মেরে ফেলার জন্য দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে। এছাড়া শরীরের অনেক জায়গায় আঘাত করে সে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় কর্মহীন হয়ে ঘরে থাকা জেলেদের নামে বরাদ্দ করা চাল চুরির অভিযোগ ওঠে বড় মানিকা ইউপি চেয়ারম্যান জসিম হায়দারের ছেলে নাবিলের বিরুদ্ধে। এই তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান সাংবাদিক সাগর চৌধুরী। এ খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যানের ছেলে নাবিল। পরে সাংবাদিক সাগরকে ডেকে এনে মোবাইল চুরি ও ছিনতাইয়ের অপবাদ দিয়ে মারধর করেন নাবিল।
মারধরের শিকার আহত সাগর চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে বড় মানিকা ইউনিয়নে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়ম এবং রাতের আঁধারে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজীকে জানাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাবিল আমাকে মঙ্গলবার সকালে ফোন করে জরুরি কথা আছে বলে বোরহানউদ্দিন গার্লস স্কুল রোড এলাকার রাজমণি সিনেমা হলের সামনে আসতে বলে। আমি সেখানে যেতেই নাবিল আমার শার্টের কলার ধরে মারধর করে বলে, আমি নাকি তার মোবাইল চুরি করার চেষ্টা করছি। এ সময় সে আমাকে মারধরের দৃশ্য ফেইসবুকে লাইভও করে। পরে স্থানীয়রা আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এরপর পরিবারের লোকজন আমাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।’
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমাকে সাগর চৌধুরী ফোন করে বড় মানিকা ইউনিয়নে চাল কম দেওয়ার বিষয়টি জানান। এর প্রেক্ষিতে আমি ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলি। তখন চেয়ারম্যান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সাগর চৌধুরী দুজন লোককে চাল বেশি পাইয়ে দেবে বলে তাদের কাছ থেকে চাল কম দেওয়া হচ্ছে এমন কথার একটি ভিডিও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মো. রাসেলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্যাতনের অভিযোগে সাংবাদিক সাগর চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে বোরহানউদ্দিন থানায় নাবিলকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে আজ (বুধবার) দুপুরে বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নাবিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।’