ত্রাণে অনিয়মের সংবাদ প্রচার

৩ সাংবাদিককে পেটাল ইউপি চেয়ারম্যান

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের সংবাদ প্রচার করায় স্থানীয় সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমেদকে বেধড়ক পিটিয়েছেন আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন ও তার লোকজন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন এম মুজিবুর রহমান ও বুলবুল আহমেদ নামে স্থানীয় আরও দুই সাংবাদিক। গত বুধবার বিকেলে আউশকান্দি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমেদ দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের নবীগঞ্জ  প্রতিনিধি এবং নবীগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সরকারি ত্রাণ বিতরণ করেন আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন। মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ৫ কেজি করে দেন বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে ফেইসবুকে ‘আসুন অসহায় দিনমজুরদের মনের কথা শুনি’ শিরোনামে এক লাইভে সাধারণ মানুষের বক্তব্যসহ অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেন সাংবাদিক সুলতান। এর জেরে বুধবার বিকেলে ২০-২৫ সশস্ত্র ব্যক্তি আউশকান্দি বাজারে সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমেদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুনও ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন সুলতানকে। তখন তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান এবং চ্যানেল এস-এর প্রতিনিধি বুলবুল আহমেদসহ আরও কয়েকজন। পরে বাজারের লোকজন সাংবাদিক শাহ সুলতানকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এদিকে চেয়ারম্যানের কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার পর কিছু উত্তেজিত মানুষ আউশকান্দি বাজারে চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন অরবিট হাসপাতালে হামলা চালায়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাংবাদিক সুলতান মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফেইসবুকে লাইভ দিয়েছেন। সরকারিভাবে এক টন চাল আমার এলাকার ১০০ দরিদ্র জনগণকে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু লাইভে প্রচার করা হয়েছে ছয় টন। ফলে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় আমার সমর্থকদের কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আমি তখন অফিসে ছিলাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে আমি নিজেও মার খেয়েছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই ঘটনায় আহত সাংবাদিক ও চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। আমি ও নবীগঞ্জ থানার ওসি উভয়পক্ষকেই মামলা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। তবে আহত সাংবাদিক থানায় অভিযোগ করলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আহত সাংবাদিকদের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেননি। অভিযোগ দিলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ নবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফকরুল আহসান চৌধুরী বলেন, ‘তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’