ঢামেক রামেক ও কক্সবাজারে করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ও কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের ল্যাবরেটরিতে করোনা শনাক্তে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢামেক, রামেক, কক্সবাজার কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে মোট ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্তে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ তলায় ভাইরোলজি বিভাগে করোনার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন গতকাল ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি ছয়জন রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রাতের মধ্যেই এর প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ছয়জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে দোহার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থাকা তিনজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করার জন্য আইইডিসিআরের একটি টিম দোহারে যায়। এরপর আইইডিসিআরের ওই টিম নবাবগঞ্জ উপজেলার তিনজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। নবাবগঞ্জের ওই তিনজনই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলার এক সৌদিপ্রবাসী করোনাভাইরাস সংক্রমিত বলে শনাক্ত হয়েছেন। তিনি ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা অনেকটা ভালো বলে জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তে দ্বিতীয় দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ভাইরোলজি বিভাগের ল্যাবে আরও তিনজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি রাজশাহীর ও একটি বগুড়ার মৃত এক কিশোরের। রামেকের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, গত বুধবার সন্দেহভাজন পাঁচজনের নমুনা নিয়ে এই ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়। সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে তা প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ভাইরাস নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের টিমের কারোরই ছিল না। তবে ৩০ জনের এই টিমকে অনলাইনে ঢাকার অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানরা প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করেছেন। ঢাকা থেকে টেকনিশিয়ানদের দুটি দল পাঁচ দিন কাজ করে ল্যাবটি প্রস্তুত করেছে। আরপি পিসিআর মেশিন স্থাপনকাজ শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। বুধবার থেকেই এখানে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্তে কক্সবাজারে পরীক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর থেকে কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবরেটরিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে প্রতিদিন ৯৬ জনের করোনা টেস্ট করা সম্ভব হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে সীমিত আকারে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এ তথ্য জানান কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়য়া।

ডা. অনুপম বড়–য়া বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্তের জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে একটি ল্যাব স্থাপন করা হয়। এটি গত বুধবার রাতে স্থাপিত হলেও মূলত গতকাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোনো মানুষের করোনাভাইরাসে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে তার দেহের রক্ত ও নমুনা এই ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। এই ল্যাবের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা রোগীকে পরীক্ষা করতে হলে জেলার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কমিটির অনুমোদন লাগবে। কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ও সদস্যসচিব সিভিল সার্জন। সরাসরি কেউ এই ল্যাবে এসে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করাতে পারবেন না। প্রতিদিনের ভাইরাস টেস্ট রিপোর্ট ঢাকার আইইডিসিআরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে ল্যাবে করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কিট পাওয়া গেছে। এর আগে ঢাকার আইইডিসিআরের মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা এই ল্যাবে কর্মরত টেকনোলজিস্টদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছেন।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ইতিমধ্যে কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০ শয্যার পৃথক দুটি আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে কাউকে ভর্তি করা হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় সারা দেশে স্থাপিত ১৭টি ল্যাবের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবটি অন্যতম।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে কি না তা শনাক্তে এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গতকাল বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম।

তিনি বলেন, উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া গ্রামের ওই ব্যক্তির সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা দিলে গতকাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফোন দেন। ফোন পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতি উপজেলা থেকে দুজনের নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে বলে তিনি জানান।

এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী, কক্সবাজার প্রতিনিধি, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি