প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিয়েছেননেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সরকারদলীয় এমপি অসীম কুমার উকিলের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) প্রবাল মুখার্জি ও গাড়িচালক এআর রেজাউল হক।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা নিজ নিজ ফেইসবুকে ছবি পোস্ট করেন। পিএস প্রবাল মুখার্জি তার ফেইসবুকে একাধিক ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কেন্দুয়ায় উকিল বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি, আপনারা আছেন তোৃ।’ রেজাউল হক কিছু না লিখলেও, একাধিক ছবি দিয়েছেন।
এসব ছবি নিয়ে জেলায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশে করোনাসংকটে চিকিৎসকরাই যেখানে পিপিই পাচ্ছেন না, সেখানে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। সচেতন সমাজের প্রতিনিধি হয়েও তারা কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছেন। মুসতাক আহমেদ নামে এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী ছবির নিচে মন্তব্য করেন, ‘কেন্দুয়ায় প্রথম এ ধরনের ড্রেস দেখলাম।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ছাড়া কাউকে পিপিই পরতে দেখলে, তাদের কাছে রোগী পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিরাপদ রাখতে দিন-রাত কাজ করছেন। তিনি বলার পরও এভাবে পিপিই পরে ফেইসবুকে জাহির করা ঔদ্ধত্য। এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ কী করে এমপির পিএস হন? বিষয়টিতে এমপিরও নজর দেওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে প্রবাল মুখার্জির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গাড়িচালক এআর রেজাউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে জেলার হাসপাতালগুলোর জন্য আসা পিপিই আমরা ইচ্ছে করে পরেছি, পরীক্ষা করে দেখার জন্য। পরে এগুলো ফেরত দিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো ওয়ানটাইম, আমরাও জানি। কিন্তু সে সময়ে এত কিছু চিন্তাভাবনা করিনি, মাথাতেও আসেনি।’