তাবলিগের প্রচারে বাংলাদেশে আসা ৩২১ বিদেশিকে রাজধানী ঢাকার দুটি মসজিদে জড়ো করা হয়েছে। ভারতের দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের একটি সমাবেশ থেকে অনেকের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব বিদেশিকে মসজিদ থেকে বের হতে দেওয়া হবে না এবং আগামী ১৪ দিন ওই মসজিদ দুটিতে তারা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।
তাবলিগের বিবদমান দুটি অংশের মধ্যে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী ১৯১ জনকে রাখা হয়েছে দেশে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত কাকরাইল মসজিদে। অন্যদিকে মাওলানা জোবায়েরের অনুসারী ১৩০ জন রয়েছেন যাত্রাবাড়ীর কলাপট্টি মদিনা জামে মসজিদে।
কাকরাইল মসজিদে তাবলিগে আসা বিদেশিদের জড়ো করার ব্যাপারে জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম গতকাল রাত ১১টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশিদের জড়ো করার পর কাকরাইল মসজিদে কাউকে ঢুকতে ও বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের দেখাশোনার জন্য ৩০ থেকে ৪০ জন রয়েছেন।’ জড়ো করা বিদেশিদের মধ্যে কারও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ
রয়েছে কি না জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তবে আইইডিসিআর মনে করলে তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে।’
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা অঞ্চলের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশিদের মসজিদে জড়ো করার খবরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসকরা তাদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করবেন। তাদের সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারাও পুলিশকে সহযোগিতা করছে।’
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩০ জন বিদেশিকে এনে মদিনা মসজিদে রাখা হয়েছে। তাদের চলাচলের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। মদিনা মসজিদে রাখা সব বিদেশি সুস্থ আছেন বলেও জানান ওসি মো. মাজহারুল।
তাবলিগ জামাতের সদস্যরা ইসলামের প্রচারে ১০-১৫ জনের দল নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়েন, এর ৪০ দিন পূর্ণ হলে তাকে বলা হয় এক ‘চিল্লা’। তাবলিগের এই দাওয়াতি কার্যক্রম লম্বা সময়ের জন্যও হয়। এরা একত্রিত হয়ে চলাফেরা ও খাবার গ্রহণ করেন। অধিকাংশই একই থালায় খান। সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের একটি সমাবেশ থেকে অনেকের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। গত দুদিন পরীক্ষা করে ওই সমাবেশে অংশ নেওয়া ৬৫০ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এরপর সেখানে প্রায় দুই হাজার মুসল্লিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারও আগে মালয়েশিয়ায় তাবলিগের একটি সমাবেশ থেকে সে দেশে অনেকের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশ হয়। করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে বলে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে মসজিদ এখনো বন্ধ না হলেও সৌদি আরবে মক্কা-মদিনার মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।