দেশে আরও পাঁচজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়াল। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আইইডিসিআর সংগ্রহ করেছে ১২৬টি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত হয়েছে ৩৮৭টি। এ নমুনাগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে পাঁচজনের মধ্যে। এর মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর এবং বাকি তিনজন শনাক্ত করেছে বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি জানান, নতুন আক্রান্তদের আইসোলেশন শুরু হয়েছে। তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের
শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যাননি। তাই মৃত্যুর সংখ্যা আগের মতো ছয়জনই। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাধীন আছেন ২৯ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে আছেন ২২ এবং নিজেদের বাড়িতে পূর্ণ পর্যবেক্ষণে আছেন ৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, এখন পর্যন্ত ঢাকার মধ্যে নয়টি আরটি পিসিআর ল্যাবরেটরি (নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্র) ও ঢাকার বাইরে পাঁচটি ল্যাবরেটরি নমুনা পরীক্ষা করছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক বিভাগে আরটি পিসিআর মেশিন বসানোর মাধ্যমে পরীক্ষার কাজ শুরু করা হবে। ক্রমান্বয়ে এপ্রিলের মধ্যে বা মাস শেষ হওয়ার আগেই সর্বমোট ২৮টি প্রতিষ্ঠানে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে পরীক্ষা শুরু করা হবে। তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমরা জানিয়েছিলাম পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা সব জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি। আমরা সাধারণত আগের দিন সকাল ৮টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যই জানাই। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০-২২টি জেলার তথ্য আমাদের হাতে নেই। উল্লিখিত নমুনাসমূহ বাকি জেলাগুলো থেকে সংগৃহীত।
সামান্য জ¦র ও গলাব্যথা থাকলে বাড়িতেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জ¦র থাকলে প্যারাসিটামল ও কুসুম গরম পানি খাবেন। গলাব্যথা থাকলে গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করবেন। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেটও খেতে পারেন। এছাড়া চাইলে স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ ও ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেও বাড়িতে বসে চিকিৎসার পরামর্শ নিতে পারেন।’ তিনি বলেন, অবস্থা একদম জটিল না হলে হাসপাতালে আসার দরকার নেই। তবে আমরা হাসপাতালগুলোতে পৃথক বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ খোলার চেষ্টা করেছি। যারা সর্দি ও জ¦রের রোগী আছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৮২ জন। এ সময়ে ৫৪৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে ও ৫ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৬ হাজার ৪৫৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে কল এসেছে ৬৫ হাজার ৯৮৪টি। এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০টি পিপিই বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ আছে ৬৪ হাজার ৪১০টি। এছাড়া টেস্টিং কিট মজুদ রয়েছে ৭১ হাজার।