নারায়ণগঞ্জে জ্বর-ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় প্রবেশের দুইটি রাস্তা টিন দিয়ে বন্ধের মাধ্যমে ‘লকডাউন’ করে দিয়েছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার রাতে শহরের পালপাড়া এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে একটি মুখ গেট দিয়ে তালা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ফকিরটোলা মসজিদের পাশে টিন দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি পালপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা এক হিন্দু যুবক ঠান্ডা-জ্বরসহ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়।
এ অবস্থায় তিনি শহরের নয়ামাটি এলাকায় হোসিয়ারি দোকানেও যাওয়া-আসা করেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই যুবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে স্বজনরা তাকে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানেই ওই যুবক মারা যান। সেখানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ওই সময় সেখানকার চিকিৎসকরা স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেন। স্বজনরা যুবকের মরদেহ এনে তড়িঘড়ি করে শহরের মাসদাইর শ্মশানে দাহ করেন।
এ সময় শ্মশানে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার পূজারিসহ সৎকারের সহযোগীরা সবাই পালিয়ে যায়।
ওই এলাকার বাসিন্দা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই যুবক করোনাভাইরাস আক্রান্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আইইডিসিআর থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। তারপরও সর্তকতার জন্য এলাকাবাসী বহিরাগতদের প্রবেশ ও অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এলাকার বাইরে যাওয়া নিষেধ করেছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসদুজ্জামান বলেন, নতুন পালপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার এক যুবক জ্বর-ঠান্ডায় মারা যাওয়ার পর এলাকাবাসী দুটি রাস্তার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।