সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী

শহরে আওতা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব কেএএস মুরশিদের

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কেএএস মুরশিদ। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে তিন মাসব্যাপী একটি পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। তাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা পল্লী এলাকায় বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ ও শহরাঞ্চলে ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা যেতে পারে।

গতকাল নিজের ফেইসবুকে ‘পরবর্তী ৩ মাস : আমাদের কী করা প্রয়োজন-আমার ভাবনা বিনিময়’ শিরোনামে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরেন। তার অনুমোদন নিয়েই দেশ রূপান্তর তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরছে।

দেশের ১৫ থেকে ৮০ বছর বয়সীদের ৪০ শতাংশকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ভেন্টিলেটর ব্যবহারসহ মেডিকেল ও প্যারা-মেডিকেল কর্মীদের ক্র্যাশ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। করোনাভাইরাসে আক্রান্তরা যাতে নিজ বাড়ি থেকেই উপযুক্ত চিকিৎসা পেতে পারে, সেজন্য সার্বক্ষণিক মোবাইল মেডিকেল ইউনিট স্থাপন করতে হবে। এসব মোবাইল ইউনিট থেকে হাসপাতালের মতোই চিকিৎসা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা জরুরি। নিরাপদে ত্রাণ বিতরণের জন্য ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট নির্ধারণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, সরকারের ত্রাণ বিতরণে সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র থাকা দরকার। এনজিওগুলোরও উচিত সুনির্দিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার গড়ে তোলা। অন্যান্য যারা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে ত্রাণ বিতরণ করছেন, তাদের জন্য সরকার বড় মসজিদগুলো ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করে দিতে পারে। এসব ত্রাণ নিরাপদে সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্ব পর্যবেক্ষণের কাজ মসজিদ কমিটিগুলোকে দেওয়া যেতে পারে। ত্রাণ বিতরণের প্রাঙ্গণ প্রতিদিন ভাইরাসমুক্ত করতে হবে এবং বিতরণকারীদের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা সৃষ্টিশীল হলে নিরাপত্তায় ছাড় না দিয়েই এগুলো করতে পারি।

কেএএস মুরশিদ বলেন, আমাদের তথ্যের দরকার। সরকার, মিডিয়া, এনজিও, গবেষকসহ অন্যরা করোনাভাইরাসের ভৌগোলিক বিস্তার বিষয়ে তথ্য বিনিময় করবে। যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো চিহ্নিত করে কিটসহ টেস্টের জন্য সেখানে যেতে হবে। শুধু তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করার জন্য একটি টিম গঠন করা যেতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে আমাদের সচেতন হতে হবে।

অর্থনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে লকডাউন ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে পারব না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে লকডাউন বলতে বুঝায় অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাত পাবে। আমাদের এর মূল্য দিতে হবে। যেখানে আবার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিকের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে হবে। এর মধ্যে অবশ্যই গ্রামীণ এলাকার অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক পোলট্রি, মৎস্য এবং ব্যবসা ও সেবা খাতে জড়িত স্বউদ্যোক্তাদের রাখতে হবে।

তিনি বলেন, এই সময় অনলাইন কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্থনীতি কিছুটা সমর্থন পাবে। যা কিছু অনলাইনে করা সম্ভব, তা করতে হবে। এজন্য ইন্টারনেটের দাম কমানো এবং স্মার্টফোন সস্তা করতে হবে। এছাড়া অনলাইনে খাদ্য ও নিত্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে।