করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

কী করা উচিত জানেন না মন্ত্রী-এমপিরা

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কী করবেন, কী করা উচিত তা নিশ্চিত করে জানেন না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সাংসদ ও রাজনীতিবিদরা। করণীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি দল থেকেও। তারা ছুটছেন শুধু ত্রাণ নিয়ে। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় না থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে দলটির মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা বলছেন, সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠলেও তাদের কিছুই করার নেই।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন একটি দুর্যোগে তারা কী করবেন, তাদের কী করা উচিত দলের পক্ষ থেকে তার কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে কিছু না বুঝেই দলের সাংসদ ও নেতারা দরিদ্র-দিনমজুরদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। তাও যে সবাই করছেন, তা নয়। অল্প কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় নেতা এ কাজে জড়িত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, দলের পক্ষ থেকে একটি দিকনির্দেশনা থাকলে এই দুর্যোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যেত। দিকনির্দেশনা না থাকায় সমন্বয় নেই এমন অভিযোগ উঠছে। অনেক বেশি চাপ নিতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও।

ক্ষমতাসীন দলের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাজ শুধু সশরীরে উপস্থিত থেকে ত্রাণ দেওয়া নয়। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। দল ও সরকারের পক্ষ থেকে কারও কাছে কোনো বার্তা না থাকায় এই দুর্যোগে সবাইকে দায়িত্বহীনই মনে হচ্ছে। শুধু ত্রাণ বিতরণকাজে অংশ নিয়ে আরও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগেও দল ও সরকারের ভেতরে যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেখা যাচ্ছে আমাদের দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ নিয়ে এলাকায় যাচ্ছেন, জমায়েত করে তা বিতরণ করে ঢাকায় চলে আসছেন। এই দুর্যোগে এটাই শুধু কাজ নয় জনপ্রতিনিধিদের। তিনি বলেন, দল ও সরকারের ভেতর সমন্বয় থাকলে ত্রাণ নিয়ে নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় যাওয়ার দরকার ছিল না। এমনও করা যেত, প্রত্যেক এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্দিষ্ট একটি স্পট থাকবে। সেখানে ত্রাণ রেখে আসা হবে এবং দিনমজুর, দরিদ্র যাদের প্রয়োজন তারা নিয়ে যাবে। এটা হলেই ভালো হতো। ত্রাণ দিতে গিয়ে কম-বেশি ভিড় হচ্ছে এবং তা সরকারের হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনা নামানো হয়েছে দেশে। এ কাজটি আরও জোরালো হতে পারত বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় করা হলে।

এক মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যে হারে ত্রাণ নিয়ে এলাকায় এলাকায় ছুটছি, বিতরণ করছি, লোক জমায়েত করছি, আমার মনে হয় এগুলো সবই শো-অফ করা মাত্র। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস এমন একটি দুর্যোগ যার অন্য কোনো দুর্যোগের সঙ্গে মিল নেই। বন্যা হলে আমরা বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ত্রাণ দিয়ে আসি, সেটা ঠিক আছে। তিনি বলেন, এটা এমন একটি দুর্যোগ এটি মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সামাজিক দূরত্ব বা সঙ্গনিরোধ নিশ্চিত করা। যেটা আমরা জনপ্রতিনিধিরা যেমন পারছি না, দলীয় নেতারাও পারছেন না। কারণ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক কোনো প্রচার নেই, নেই কোনো নির্দেশনা। আমরা শুধু ছুটছি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে। আমাদের মনে রাখা উচিত, সাংসদ বা জনপ্রতিনিধিদের কাজ শুধু ত্রাণ বিতরণই নয়, এটা তেমন দুর্যোগও নয়।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, রাজনীতি এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছে কোনো জেলায় কোনো রাজনৈতিক কর্ম-উদ্যোগ নেই। দলীয় জনপ্রতিনিধিরা এমন এক অবস্থানে চলে গেছেন- এলাকায় দল নয়, যেন রাজনীতির মূলই হচ্ছেন সাংসদ ও অন্য জনপ্রতিনিধিরা। ফলে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রাজনৈতিক উদ্যোগে কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে দল নয়, সাংসদরাই সর্বেসর্বা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ত্রাণ বিতরণে গণজমায়েতকে বিপজ্জনক মনে করছেন। গতকাল এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ রাখতে হবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে অধিকতর বিপজ্জনক পথ বেছে না নিই। কোনো অবস্থাতেই জমায়েত করা যাবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা যে দায়িত্ব পালন করছে তাদের সাহায্য করতে হবে।