কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সীমিত : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নমুনা পরীক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) সীমিত পর্যায়ে আছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, তবে আমরা এখনো প্রকৃত পরিস্থিতিটা বুঝছি না। তাই আমরা যত বেশি সংখ্যক নমুনা পাব, তা দ্রুত পরীক্ষা করব। তিনি বলেন, আমরা সবার কন্টাক্ট ট্রেসিং করতে পেরেছি। যখনই কোনো টেস্ট পজিটিভ হয়, সঙ্গে সঙ্গে তার কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ শুরু করি। যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, প্রথমে তাদের মাধ্যমে তাদের পরিবারে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সেসব সদস্যের সঙ্গে যারা ওঠা-বসা করেন তাদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নমুনা পরীক্ষার পর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৯ জন, যাদের শরীরে কভিড-১৯ এর সংক্রমণ রয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনকে শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর। একজনকে শনাক্ত করেছে ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠান। নতুন আক্রান্তদের বিষয়ে তিনি বলেন, ৯ জনের মধ্যে ৫ জন পূর্বের আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। দুজন বিদেশ থেকে এসেছেন। বাকি দুজনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুজন শিশু, যাদের বয়স দশ বছরের নিচে। অন্যদের মধ্যে তিনজনের বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে, দুজনের বয়স ৫০-৬০ এর মধ্যে, একজনের ৬০-৭০ এর মধ্যে এবং অন্যজনের বয়স ৯০ বছর। এই কর্মকর্তা জানান, ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের একজন গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন। অন্যজন আগেই শনাক্ত হয়েছিলেন। তাদের একজনের বয়স ৯০ ও অন্যজনের ৬৮ বছর। একজন ঢাকার ও অন্যজন ঢাকার বাইরের। এদের একজনের হৃদরোগ ছিল এবং অন্যজন স্ট্রোকের রোগী ছিলেন। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আগের আক্রান্তদের মধ্য থেকে আরও চারজন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে সর্বমোট রোগীর সংখ্যা ৭০ জন। এরমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩০ জন। বাকি আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে বাড়ি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২ জন ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২০ জন।

বুধবারের মধ্যে আসবে এক লাখ কিট : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, আগামী বুধবারের মধ্যে অর্ডার করা এক লাখ কিট দেশে এসে পৌঁছাবে। শুক্রবার হওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে কোনো কিট ও পিপিই সরবরাহ করা হয়নি। মজুদের সংখ্যা আগের মতোই আছে।