চট্টগ্রামে প্রথম করোনা শনাক্ত ব্যক্তি (৬৭) টানা ১২ দিন বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছেন। তার মেয়ে-জামাতা সৌদি আরব থেকে ওমরা করে এলেও সে তথ্য গোপন করা হয়। এমনকি অসুস্থবোধ করায় নগরীর দুটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। ফলে এই রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা সংক্রমণ আতঙ্কে রয়েছেন।
তবে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই আক্রান্তের নগরীর দামপাড়ার বাড়ি, সাতকানিয়ায় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি এবং মেয়ে-জামাতা পটিয়ার যে বাড়িতে রয়েছেন, সেটিসহ মোট ৭টি ভবন ও ১৫টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বজন, পুলিশ, চিকিৎসকসহ মোট ২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এক ব্যক্তির অসাবধানতা এবং তার পরিবারের তথ্য গোপনের কারণে রোগটি পুরো চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ায় বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের তিন চিকিৎসকসহ মোট ২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আর আক্রান্ত ব্যক্তির ওমরাফেরত মেয়ে, জামাতা এবং শ্বশুরবাড়ি ও স্বজনদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তি ন্যাশনালে দুদিন চিকিৎসা নেন। এখানে পিপিই ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া হয়। এজন্য হাসপাতালটির তিন চিকিৎসক, তিন নার্স, আয়াসহ মোট ২৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য এলেও রোগী অস্বীকার করেন। এরপরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পার্কভিউ পিপিই ব্যবহার করে চিকিৎসা দেয়।’
শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ওই ব্যক্তি। শুরু থেকেই সেখানে তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়। শুক্রবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা ধরা পড়ে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘বিদেশফেরতদের সংস্পর্শে আসার তথ্য গোপন করে তিনি চিকিৎসা নেন। বর্তমানে আইসোলেশনে তার চিকিৎসা চলছে। অবস্থার উন্নতি হয়েছে।’
চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির মেয়ে, জামাতা ও শাশুড়ি গত ১২ মার্চ সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে নগরীর একটি বাসায় যান। পরে তারা সাতকানিয়ায় নিজেদের বাড়িতে যান। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে ১৪ দিন পার হলেও বিদেশফেরত তিনজনের মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এরপরও করোনা শনাক্তের পর সতর্কতা হিসেবে সাতকানিয়ায় তাদেরসহ আশপাশের ১২টি বাড়ি, এখন অবস্থান করা পটিয়ার বাড়ি এবং চন্দনাইশে এক নিকটাত্মীয়ের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
ওই পরিবারে ওমরাফেরত সদস্যদের উপস্থিতির কথা জেনে নগরীর দামপাড়ার বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছিলেন। এরপর নগরীর চকবাজার থানা থেকে এক এসআই বাসায় গিয়ে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা দিয়ে আসেন। সিএমপির চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবেশীদের অভিযোগ পেয়ে এসআই গিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদিফেরত মেয়ে তথ্য গোপন করেন। বাবা বাজারে গেছেন বলে জানান। সেদিন বিদেশফেরতের বিষয়ে সত্য তথ্য এবং বাবা অসুস্থ বললে আজকের পরিস্থিতি এড়ানো যেত।’
এদিকে দামপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াসিন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি সব তথ্য গোপন করে মসজিদে গেছেন। বিভিন্ন সময় বাজারও করেছেন।’ এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতার কথা শুনে আগ্রাবাদ পাঠানটুলির একটি পরিবার বাসায় দেখতে এসেছিল। এখন পাঠানটুলিতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও এখানকার বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে।