আজ থেকে বস্তিবাসী পাবেন ১০ টাকা কেজিতে চাল

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে কর্মহীন মানুষদের জন্য ওএমএসের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রবিবার মিরপুরের রূপনগর ঝিলপাড় বস্তি ও মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোক্তাপর্যায়ে চালের মূল্য প্রতি কেজি ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি পরিবার এই দামে সপ্তাহে ৫ কেজি করে চাল পাবেন। আজ দুটি স্পটে এ কার্যক্রম শুরু হলেও পরে তা ঢাকা মহানগরের অন্য এলাকাগুলোতে সম্প্রসারিত হবে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর ৭৩ বস্তির ৩৯ হাজার ১৮০টি পরিবার এ সুবিধা পাবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় রাজধানীর ডিলারদের ১০ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন জনসাধারণ বাড়িতে অবস্থান করায় কর্মহীন মানুষকে এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর সুবিধাভোগী হবেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়। মোবাইল ফোন নম্বরসহ ভোক্তার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ভোক্তা হিসেবে নির্বাচন করা যাবে না। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরিবারের কেউ যদি খাদ্যবান্ধব অথবা ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী হয়ে থাকেন তাহলে তিনি এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। জেলা ও বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে প্রতিদিন ২ টন এবং ঢাকা মহানগরের কেন্দ্রে প্রতিদিন ৩ টন করে চাল বিক্রি করা যাবে। ওএমএস কেন্দ্রের সংখ্যা ঠিক রেখে বিক্রয়কেন্দ্রের স্থান পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবীদের বসবাস কেন্দ্রের কাছের বস্তি এলাকায় অথবা পর্যাপ্ত খালি জায়গা আছে এমন স্থান অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। একজন ভোক্তা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সপ্তাহে একবার মাত্র ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন। সপ্তাহে ৩ দিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

আটার দাম কমেনি

চালের দাম কমানো হলেও ওএমএসের আটা বিক্রি হবে আগের দরেই। প্রতি কেজি আটা ১৮ টাকা দরে ৯৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রি হবে। প্রতি কেন্দ্রে প্রতিদিন এক টন করে আটা বিক্রি করা যাবে। ৯৬টি কেন্দ্রে ওএমএসের মাধ্যমে আটা বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সপ্তাহের ৬ দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।