মুজিব বর্ষের চাঁদার টাকায় মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা যুবলীগের

করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশজুড়ে বন্ধ অফিস, দোকান। নিম্নবিত্তের জন্য রয়েছে ত্রাণের ব্যবস্থা। কিন্তু সংকটে আছে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত। তাদের পক্ষে বাইরে বের না হয়ে পণ্য কেনা সম্ভব নয়। তবে সরকার এ মুহূর্তে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যুবলীগ।

ফরিদপুরে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য ন্যায্য মূল্যে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে নিত্যপণ্য বিক্রি করছে যুবলীগ।

‘স্বল্পমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল আপনার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি আমরা’ এই স্লোগানে ট্রাকযোগে জরুরি পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন তারা দ্বারে দ্বারে। 

ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শহরের বদরপুরের বাসভবনে রোববার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ সময় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এটিকে যুবলীগের একটি মহৎ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, করোনাভাইরাসের যে প্রকোপ শুরু হয়েছে সেটি মোটেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বাজারঘাট করতে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব না মানলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সরকার আগামী দুই সপ্তাহ সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছে। সরকারের নির্দেশনা মেনে চললে এপ্রিলের মধ্যেই এই ভাইরাসের কবল থেকে মুক্তি আশা করা যায়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা যুবলীগের সভাপতি এইচএম ফোয়াদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ যাতে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কিনতে বাজার-ঘাটে বের হতে না হয়, সে জন্য আমরা ট্রাকযোগে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এসব পণ্য কম দামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি জানান, প্রত্যেক ওয়ার্ডে তিনটি ট্রাকযোগে এসব পণ্য বিক্রি হবে।

যুবলীগের এই নেতা বলেন, মুজিব শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের জমাকৃত অর্থ থেকে এই ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে,  প্রতি কেজি চাল ৩৮ টাকা দরে, ডাল ৭৩ টাকা, সয়াবিন তেল ৯৮, আলু ১৯, পেঁয়াজ ৩২, লবণ ১৫, আটা ৩০ ও ডিম প্রতি হালি ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান।