করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে লকডাউনের ঘোষণা বা কারফিউ জারি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার আশঙ্কা এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। গতকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানও একই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) হিসাব অনুসারে নারায়ণগঞ্জে আগের ৬ রোগীর সঙ্গে গতকাল নতুন করে আরও ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে মোট কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়ে হয়েছে ১১ জন। এর মধ্যে দুজন মারাও গেছে। এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের কেউ যেন ঘরের বাইরে বেরুতে না পারে সেজন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমান।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দিন দিন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার কয়েকটি এলাকায় প্রশাসনের সহায়তায় লকডাউন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সিটি এলাকায় ইপিজেড, গার্মেন্টস, হোসিয়ারিসহ ভারী শিল্প কলকারখানার পাশাপাশি চাল, ডাল, আটা, ময়দা, লবণসহ নিত্যপণ্যের পাইকারি বাজার রয়েছে এ কারণে এলাকাটি শ্রমিক অধ্যুষিত। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এই নগরীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যধিক। মানুষের জীবন রক্ষার্থে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পূর্বক সার্বিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জরুরি ভিত্তিতে সিটি এলাকা লকডাউন/জরুরি ভিত্তিতে কারফিউ জারি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এখনই সময় লকডাউন দেওয়ার। নারায়ণগঞ্জকে এখনই লকডাউন না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। কারফিউ বুঝি না, লকডাউন বুঝি না, নারায়ণগঞ্জের কেউ যেন ঘরের বাইরে বেরুতে না পারে সেজন্য যা করণীয় আজই করতে হবে। জনগণের স্বার্থে মানবজাতির স্বার্থে দেশের স্বার্থে কেউ যেন ঘরের বাইরে বের হতে না পারে।’
জেলা করোনা ফোকাল পারসন এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইইডিসিআর থেকে নতুন করে নারায়ণগঞ্জে পাঁচ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।