ঝালকাঠিতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি ছুটিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের আড়াই টন চাল এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। গত রবিবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার বাস-া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মনিরুজ্জামান মনিরের বাড়ি থেকে এগুলো জব্দ করা হয়। তবে মনির পলাতক রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চালগুলো করোনা সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসন বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু রাতে মনিরের বাড়িতে সরকারি বস্তা থেকে বের করে এগুলো নুরজাহান ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে ৫০ বস্তাভর্তি আড়াই টন চাল জব্দ করেন।
জেলা প্রশাসক জোহর আলী বলেন, ‘মেম্বারের মা বলেছেন চালগুলো কিনে কয়েক দিন আগে বাড়িতে এনে রাখার কথা জানায় তার ছেলে। এখন এগুলো স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি চাল কেনার অনুকূলে কাগজপত্র থাকলে আনতে বলা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুয়াকাটা পৌরসভার ১৭৬০ কেজি চালের হদিস নেই : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এবার জেলেদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ ভিজিএফের ১ হাজার ৭৬০ কেজি চালের কোনো হদিস মিলছে না। গতকাল সোমবার সুবিধাভোগী প্রান্তিক জেলেরা চালের টোকেন নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এ নিয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র জানান, বাজার থেকে চাল কিনে সমপরিমাণ চাল জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
জানা যায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউনে কর্মবিমুখ হয়ে পড়া দিন আনে দিন খায় শ্রেণির মানুষের খাদ্য সহায়তায় সরকার যখন তাদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছে। ঠিক তখন কুয়াকাটা পৌরসভার অন্তর্গত ২২ প্রান্তিক জেলে তাদের দুই মাসের মাথাপিছু বরাদ্দ ৮০ কেজি করে চাল আনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসায় থলের বেড়াল বেড়িয়ে পড়ে। যদিও চাল বিতরণকালে তদারকি কর্মকর্তা, মেয়রসহ পুলিশ উপস্থিত ছিল। কিন্তু এরপরও ১ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস মিলছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজার থেকে সমপরিমাণ চাল কিনে আজ মঙ্গলবার সকালে জেলেদের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও খাদ্যগুদাম থেকে ৫৩০ জন জেলের অনুকূলে বরাদ্দ ৪২ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল গ্রহণ করে কুয়াকাটা পৌরসভা। এরপর উত্তোলনকৃত চাল জেলেদের মাঝে বিতরণের জন্য মজুদ রাখা হয় পৌরসভার স্টোরে।
কলাপাড়া খাদ্যগুদামের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন জানান, কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর মো. তৈয়বুর রহমান রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে গুদাম থেকে ৪২ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে নিয়ে যান। তাকে চাল ওজন করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভিজিএফ চালের তদারকি কর্মকর্তা ও উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, তার উপস্থিতিতে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ২২ জন জেলের চাল উধাও হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। মঙ্গলবার বাদ পড়া ওই ২২ জেলের চাল বিতরণ করা হবে।
কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, মেয়র আমাকে চাল উত্তোলনের জন্য কদিন আগে খাদ্যগুদামে পাঠান। গুদাম থেকে চাল এনে পৌরসভার স্টোরে রাখি। বিতরণকালে চাল কম হওয়ায় মেয়র চাল কিনে দিতে বলায় আমি কুয়াকাটা বাজার থেকে চাল কিনে দিই। কীভাবে চাল কম হলো বুঝতে পারছি না।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, ২২ জন জেলে চাল পাননি। বাজার থেকে কিনে তাদের চাল বিতরণ করছি। চাল কোথায় গেল সেটা দেখব।
কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভার জেলেদের ভিজিএফসংক্রান্ত চাল নিয়ে অভিযোগ শুনেছি। তদারকি ও খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।