১২ বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবহারে প্রস্তুতি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে চট্টগ্রাম নগরীর ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যাগুলো ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে ওইসব হাসপাতালগুলোর আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরেই চলছে বলে একাধিক হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে। অন্যদিকে আইসিইউ সংকট থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। সেই আইসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের যন্ত্রপাতিও ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে

আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের প্রয়োজনে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতে পারবে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের এমন শতাধিক আইসিইউ শয্যা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৪ ধাপে এসব আইসিইউ শয্যা ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতি ধাপে তিনটি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ব্যবহার করা হবে। এই তিনটি হাসপাতালে তাদের নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হলে পরের তিনটি হাসপাতালকে

 ব্যবহার করা হবে, যা ধারাবাহিকভাবে চলবে চার ধাপে।

গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বিভাগীয় কমিটির সভা হয়। এতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার সদস্যের কমিটি হাসপাতাল পরিদর্শন এবং বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে। এরপর গত ৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, চারটি ধাপে মোট ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল তাদের আইসিইউ সুবিধা প্রদান করবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হবে এমন করোনা রোগীর জন্য আমরা নগরীর ১২টি হাসপাতালকে নির্দিষ্ট করেছি। এজন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখতে বলেছি, কারণ তাদের আইসিইউ সহায়তা নেব আমরা। এজন্য প্রথমে ধাপে তিনটি হাসপাতাল, এরপর তিনটি, এভাবে মোট ৪ ধাপে আমরা ১২টি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ব্যবহার করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের প্রশিক্ষিত চিকিৎসক নার্সসহ সবাইকে নিয়ে এই শয্যা ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে তারা প্রস্তুতি নেয়।’

চট্টগ্রাম নগরীর যে ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ব্যবহার করা হবে তার প্রথম ধাপে যে তিনটি হাসপাতাল রয়েছে তা হলো : পাঁচলাইশের পার্ক ভিউ হাসপাতাল, জিইসির মেডিকেল সেন্টার এবং খুলশীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। এই তিনটি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা রোগীতে পূর্ণ হলে তারপর ব্যবহার করা হবে দ্বিতীয় ধাপের তিনটি হাসপাতাল। সেগুলো হলো : কাতালগঞ্জের সার্জিস্কোপ হাসপাতাল, ইউনিট-২, পাঁচলাইশের ডেল্টা হাসপাতাল এবং সিএসটিসি হাসপাতাল। দ্বিতীয় ধাপের এসব হাসপাতালের পর তৃতীয় ধাপের আইসিইউ শয্যার জন্য ব্যবহার করা হবে- ওআর নিজাম রোডের সিএসসিআর হাসপাতাল, মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতাল এবং ওআর নিজাম রোডের এশিয়ান হাসপাতাল। এরপর সর্বশেষ চতুর্থ পর্যায়ে ব্যবহার করা হবে ওআর নিজাম রোডের রয়েল হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল এবং মেহেদিবাগের ম্যাক্স হাসপাতাল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু নাসের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সবাই চিঠি পেয়েছি। করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীকে আইসিইউ সেবা দিতে আমরাও প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এই সময়ে সরকারের পাশে দাঁড়াতে, রোগীদের সেবা দিতে আমাদের আইসিইউ শয্যা ব্যবহার করতে দেব। এ নিয়ে মতপার্থক্যের কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে একসঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিতে এগিয়ে আসতে হবে।’

অন্যদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ ও ভ্যান্টিলেটর সহায়তার প্রয়োজন হবে। এজন্য আমাদের জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার ইউনিট হচ্ছে। অপরদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত রাখার জন্য বলা হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আইসিইউ সংকট রয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এরপরই আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করে প্রশাসন। এরপর গত ৩০ মার্চ করোনা মোকাবিলায় চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ জানান, ১০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের যন্ত্রপাতি আসা শুরু হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে একটি টিম এসে তা স্থাপনের কাজ শুরু করবে।