করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে চলতি এপ্রিল মাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘করোনার সময়ে ৯ লাখ মানুষ বাইরে থেকে এসেছেন। তারপরও আমরা ভালো আছি। এই মাসটা খুব ক্রিটিকাল। এই মাসে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএইচডি) ভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন লকডাউন অবস্থায় আছি। বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তাদের অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন, এখনো অনেকে আছেন। যথাযথ ব্যবস্থার কারণেই আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় অনেক ভালো। তবে চলতি
মাস আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা টেস্টিং ল্যাব বাড়াচ্ছি। অল্প সময়ের মধ্যে ১৭-১৮টি ল্যাব চালু করেছি। আগামীতে আরও ১০টি ল্যাব চালু করা হবে। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা যারা আছেন, তাদের খেয়াল রাখতে হবে টেস্টিং যেন ভালো হয়, আরও বেশিসংখ্যক নমুনা সংগ্রহ যেন হয়, অন্তত ১০-২০ জন করে যেন সংগ্রহ হয়। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, আর তাদের আশপাশে যারা আছেন তাদের নমুনা সংগ্রহ করে নিকটস্থ ল্যাবে পাঠাবেন।’ স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যত বেশি পরীক্ষা করবেন, তত বেশি আমরা শনাক্ত করতে পারব। ব্যবস্থা নিতে পারব, কোয়ারেন্টাইনে নিতে পারব। করোনাভাইরাস রোধ হবে।
সরকার ঘোষিত ছুটিতে সবাইকে নিজ ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে বাড়িতে থাকতে হবে। কারণ করোনা সংক্রমণের মুখে সিঙ্গাপুর ও জাপানের মতো দেশে আবারও লকডাউন শুরু হয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ জনসমাগম এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কতজন নামাজ পড়বেন তা প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, বাজারের সময়ও তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এসব নির্দেশনা সবাইকে মেনে চলতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গতকাল একই স্থান থেকে বিভিন্ন এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। ছোঁয়াচে রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পিপিই যা লাগে দেবেন। পিপিই অনেক পাচ্ছি, দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে আরও দেব। তবে বিশেষায়িত এই সুরক্ষা পোশাকের সঠিক ব্যবহার যেন হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’