বগুড়া বাফার গোডাউনের সামনে আনলোডের অপেক্ষায় তিন দিন ধরে পড়ে আছে ৩৫টি সারবোঝাই ট্রাক।
অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও লেবার সংকটের অজুহাতে সার আনলোড না করায় ট্রাকের ৭০ জন চালক-হেলপার খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া সেখানে কোনো শৌচাগার না থাকায় ৭০ জন মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। যত্রতত্র মল-মূত্র ত্যাগ করায় গোডাউনের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নিজেরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
বুধবার বগুড়া শহরতলীর পুরান বগুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের আপদকালীন সার মজুদের (বাফার) গুদামে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব সার কারখানা থেকে গত ৫ এপ্রিল ভোর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বগুড়া বাফার গুদামের সামনে সারবোঝাই ৩৫টি ট্রাক আসে। কিন্তু কোনো ট্রাক থেকে সার আনলোড করা হচ্ছে না।
চালক দুলাল, হেলপার নূর আলম ও ফাইজুল ইসলামসহ অন্যরা জানান, আশপাশের সব হোটেল বন্ধ থাকায় তারা খেতে পারছেন না। রাতে ট্রাকের মধ্যে ঘুমাতে হচ্ছে। কোনো বাথরুম না থাকায় গোসল করতে পারছেন না তিনদিন ধরে। আবার অফিসের শৌচাগার তাদেরকে ব্যবহার করতে না দেয়ায় বাধ্য হয়ে যত্রতত্র মল-মূত্র ত্যাগ করতে হচ্ছে।
কবে নাগাদ ট্রাক থেকে সার আনলোড করা হবে কেউ কিছুই বলছে না তাদের। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনাহারে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। খাবার হোটেল খোলা না পেয়ে মুড়ি খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন অনেকেই।
বাফার গোডাউনের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, ট্রাক ড্রাইভাররা ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করে সার নিয়ে চলে এসেছে। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে লেবার ঠিকমত আসতে না পারায় আনলোড করা যাচ্ছে না। আবার বাইরে থেকে লেবার আনতে গেলে বাফার গোডাউনের লেবারদের সংগঠনের নেতারা বাধা দিচ্ছে। ফলে তারাও বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
তিনি বলেন, লেবার ডেকে এনে প্রতিদিন ১০টি করে ট্রাকের সার আনলোড করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই সময় পর্যন্ত ট্রাক শ্রমিকদের কিছুটা কষ্ট করতেই হবে।