চট্টগ্রামে বুধবার ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস-বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় নতুন তিনজনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মোট ১৬টি বাড়ি ও ৬টি দোকান লকডাউন করা হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে একজন গার্মেন্টস কর্মকর্তা হওয়ায় সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তার পাঁচ সহকর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজনের বাসা সাগরিকা এলাকায় সেখানে মোট ৫টি বাড়ি, দ্বিতীয়জনের বাড়ি শাপলা আবাসিক এলাকায় সেখানে ৬টি বাড়ি এবং সীতাকুন্ড এলাকায় আক্রান্ত তৃতীয় ব্যক্তির বাসাসহ মোট ৫টি বাড়ি ও ৬টি দোকান লকডাউন করা হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রামে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১১ জন রোগী আছে জানিয়ে সিভিল সার্জন আরও বলেন, এর মধ্যে ৮জন জেনারেল হাসপাতালে, তিনজন ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই ১১ জন রোগীর মধ্যে ৪জন নারী রয়েছে।
এদিকে, গত বুধবার তিনি গণমাধ্যমকে চট্টগ্রামে প্রথম শনাক্ত হওয়া ৬৭ বছর বয়সী রোগীর নমুনা দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করে নভেল করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছে জানান। দ্বিতীয়জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, ওই রির্পোট আসলে পজিটিভ নাকি নেগেটিভ জানা যাবে উল্লেøখ করেন।
চট্টগ্রামে আক্রান্তদের একজন উত্তর কাট্টলী এলাকার একটি পোশাক কারখানার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমার্শিয়াল অফিসার। তার বাসা পাহাড়তলীর সাগরিকা এলাকায় উল্লেøখ করে আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাাফিজুর রহমান জানান, ওই কর্মকর্তা ব্যাংকিং ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ নেই। তবে ওনার সাথে কাজ করা এমন পাঁচজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সীতাকুন্ডে পৌর সদরের গোডাউন রোড এলাকার শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের একটি ব্যাংকে কাজ করেন।
আমাদের সীতাকুন্ড প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তার গ্রামের বাড়ি স›দ্বীপ । গত তিন দিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে সীতাকুন্ডের ভাড়া বাসায় আসার পর থেকে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। এরপর বুধবার বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষার পর তার করোনা শনাক্ত হয়।
অপরদিকে, চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত হওয়া তিন রোগীর মধ্যে একজন নারী। ওই গৃহিণীর বাসা পাহাড়তলীর শাপলা আবাসিক এলাকায়।
পাহাড়তলী থানার ওসি মাইনুর রহমান জানান, দুদিন আগে শাপলা আবাসিকের ওই নারীর নমুনা সংগ্রহের পর থেকেই ওই একতলা বাড়ি লকডাউনেই ছিল। সেখানে ওনার বাড়িসহ বর্তমানে মোট ৬টি বাড়ি লকডাউনে আছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, নতুন তিন আক্রান্ত রোগীর বিদেশ যাওয়া-আসা কিংবা বিদেশফেরত কারো সংস্পর্শে আসার হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। তারপরও আরও অনুসন্ধান চলছে, চূড়ান্তভাবে পরে জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে এই পর্যন্ত ৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে এই পর্যন্ত মোট ৩১০ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।