করোনাভাইরাস সচেতনতায় অভিনব হেলমেট

নিজের বানানো হেলমেট হাতে বি. গৌতম পথচলতি কার ও বাইক থামিয়ে সতর্ক করেন রাজেশ বাবু মুসলিম ঐতিহ্যে হাসপাতাল করোনার বিপক্ষে লকডাউন দেশে দেশে। সবকিছু শাটডাউন। তার মধ্যেই কীভাবে ভাইরাসটি বানালেন বি. গৌতম নামের শিল্পী। পড়েছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং! হেলমেটটি পরে ডিউটি করছেন রাজেশ বাবু। ভারতের চেন্নাইয়ের এই কর্ম সাড়া ফেলেছে। লিখেছেন ওমর শাহেদ

 পুলিশের মাথায় ভাইরাস

‘নোভেল করোনাভাইরাস’র জন্য পুরো দেশে তালাবন্ধ করা বা লকডাউন কার্যকর করেছে ভারত। এ সময়টিতে ঘরের বাইরে বের না হয়ে মানুষকে সুরক্ষিত থাকার বার্তা দিতে সৃজনশীল এক উপায় বেছে নিয়েছেন ভারতীয় পুলিশ অফিসার ‘রাজেশ বাবু’। পদে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। ডিউটি করেন দেশের দক্ষিণের বিরাট শহর চেনড়বাইয়ে। তিনি সেখানে রাস্তায় তার পেশাগত কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনের সময় মাথায় পরেন বিশেষভাবে তৈরি করা করোনাভাইরাসের আসল চেহারার একটি হেলমেট। রাজপথে হেলমেটটি পরেই তিনি লকডাউনের মধ্যে পথচলতি ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাইকগুলোকে চেকপয়েন্ট বা তল্লাশি স্থানগুলোতে থামান। কারণ জানতে চান চলাচলের।

চেনড়বাই বা মাদ্রাজ নামের বিশাল শহরটি ভারতের তামিলনাড়ুর অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। ‘সিনেমা সিটি’ও। সুচালো লাল কাঁটার মতো ভাইরাসের চেহারায় পূর্ণ রাজেশের বিশেষ হেলমেটটি। সেগুলোর আগায় আবার বাতি আছে। জ্বলে ব্যাটারিতে। তখন তার পরনে থাকে পুলিশের চির খাকি পোশাক, কেবল মাথার হেলমেট ছাড়া; হাতে প্রায়ই কোনো লাঠি বা মারণাস্ত্র থাকে না এই অফিসারের। মানবতার কথা ছড়িয়ে দেওয়া, মানুষকে সচেতন করার জন্যই বিশেষ হেলমেটটি পরে থাকেন তিনি। যুদ্ধ নয়, জোরাজুরি নয়, মানুষকে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের ও দশের রোগ বিস্তারের হাত থেকে অভিনব উপায়ে বাঁচাচ্ছেন। হেলমেটটি মাইμোস্কোপে করোনাভাইরাস দেখতে যেমন, ঠিক তেমন। কভিড-১৯ নামের এ ভাইরাসের কারণেই পৃথিবী জুড়ে মহামারী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যার মাথায় এলো বুদ্ধিটি

হেলমেটটি পরে চেনড়বাইয়ের বাস, ট্রাকের যাতায়াতের পথগুলোতে পথচলতি মানুষের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলছেন রাজেশ। আর এই সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডকে যার চিন্তাপ্রসূত তিনি একজন শিল্পী। তিনি নিজেই বানিয়েছেন কভিড-১৯ ভাইরাসসদৃশ হ্যালমেটটি। বি. গৌতম নামের ওই শিল্পী চেনড়বাই শহরেই বসবাস করেন। চেনড়বাইভিত্তিক ‘আর্ট কিংডম’ নামে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

গৌতম বলেন, ‘হেলমেটটি পরে সারা দেশে মানুষের অসচেতনতা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মানুষজন এখনো রোগটি প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট পরিচ্ছনড়ব নন। তারা খুব সচেতন নন। সরকারিভাবে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ আছে, কিন্তু এখনো অনেক মানুষ নির্লজ্জের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের অনেকের মুখেই সুরক্ষাবন্ধনী মাস্ক নেই। হাত সুরক্ষিত রাখারও কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো কিছুই তো নেই।’

এ অবস্থায় গৌতমের মনে হলো সাধারণ মানুষ এই রোগকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। যেহেতু রোগের বাহক ভাইরাসটিকে খালি চোখে দেখা যায় না, তাই এই কাজগুলো করছেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলেন, এমন কিছু বানাবেন, যাতে সারা ভারতের মানুষ ভাইরাসটিকে নিজের চোখে দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন, সেটি তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ফলে তারা ভয় পাবেন মনে হলো তার।

যেভাবে হলো বাস্তবায়ন

কভিড-১৯ ভাইরাসের আদলে গৌতমের হেলমেট বানানোর গল্প শুরু হলো ২৮ মার্চ। তারও চার দিন আগে ২৪ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে ২১ দিনের লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। পুরো দেশ ‘কভিড-১৯’-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এই লকডাউনের মধ্যেই গৌতম গেলেন তার বাড়ির সবচেয়ে কাছের পুলিশ স্টেশনে। শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে পুলিশ স্টেশনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবাই তখনো কাজ করছিলেন। ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করা এই মানুষগুলোর জন্য খুব খারাপ লাগল এবং তাদের কাজের প্রচণ্ড চাপ কমাতে চাইলাম। পাশাপাশি আমার আরও লক্ষ্য ছিল, জনগণকে অনেক সচেতন করব।’ পরে সেই পুলিশ সদস্যদের সাহায্য ও সমর্থন পেয়ে তিনি নিজের কাজে নামলেন। তবে খুব কষ্ট হয়েছে। বাড়ির আশপাশের, কাছে, দূরের প্রতিটি দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি আদেশেই শাটডাডন সব। অনেক চেষ্টা করেও প্রয়োজনীয় উপকরণ পেলেন না। এরপর তিনি হাতের কাছে যা পেলেন তা-ই দিয়ে কাজ শুরু করলেন। উপস্থিত বুদ্ধিই তার সহায় হলো। হেলমেটটি ও সেটির তীক্ষè, সুচালো আগাগুলো বানালেন দৈনিক পত্রিকা ও টিস্যু দিয়ে। অনেকগুলো কাগজ ও অসংখ্য টিস্যু লাগল। খুব ভালোভাবে কাজে লাগল। কারণ কাগজে করোনাভাইরাস ছড়ানোর নজির এখন দেখা যায়নি। হেলমেটটি বানিয়ে দিয়ে দিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর রাজেশ বাবুকে। পুরো আইডিয়াটি প্রম থেকে তিনি পছন্দ করেছেন।

রাজেশের কার্যক্রম

হেলমেটটি পরেই রাজেশ বাবু এখন কর্মস্থলে কাজ করেন। থামান কার ও মোটরসাইকেলগুলো। লকডাইনের মধ্যে বাইরে বেরিয়েছেন কেন, কোথায় যাচ্ছেনÑ পেশাগত কারণে জানতে চান। কেউ কেউ অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে বিবাদেও জড়িয়ে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তা রাজেশ। তিনি এগিয়ে গিয়ে থামিয়ে দেন সেই পরিবহনগুলোকেই বেশি, যখন দেখেন তার যাত্রী, চালক; দুই পক্ষই নিজেদের সুরক্ষায় মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তাদের নানা প্রশেড়বর পর জরিমানা করতেও ছাড়েন না। তাদের জেলও হয়। প্রয়োজনের তাগিদে অসচেতন এই মানুষগুলোকে পুলিশ অফিসার মুখে মাস্ক, হাতে চিকিৎসকের বলা বন্ধনী পরতে অনুরোধ করেন। তাদের সবাইকে জানান সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভাইরাসটি প্রতিরোধ করে চলতে হবে।

করোনাভাইরাসের মতো সেজে রাজেশ রাস্তার মানুষকে প্রায়ই হুমকি দেন, ‘এই যে ভাইরাসটিকে দেখুন। যদি বাড়ির বাইরে বের হয়ে আসেন, তবে আপনাদের জীবনে আমি ঢুকে পড়ব। মরতে পারেন তখন।’

ভাইরাস আদলের হ্যালমেট পরা রাজেশের ছবি পুরো ভারতে ছড়িয়ে গেছে। তিনি ভাইরাসটি ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে মানুষকে সহায়তা করছেন। তার এই প্রচেষ্টা লকডাউন মেনে চলা ও সেটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর হচ্ছে।

শিল্প যখন যুদ্ধের হাতিয়ার

ভাইরাসসদৃশ হ্যালমেট আবিষ্কার করে শহরের একজন ছোটখাটো তারকা হয়ে গেছেন গৌতম। একের পর এক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুরোধে ভেসে যাচ্ছেন তিনি। স্কল.ইন নামের ভারতের একটি ইংরেজি মাধ্যমের অনলাইন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গৌতম বলেন, ‘আমার খারাপ লেগেছে এই ভেবে, এর আগেও অনেকগুলো শিল্পকর্ম তৈরি করেছি। কোনোটিই কোনো ধরনের সাড়া ফেলতে পারেনি। মানুষের তেমন কোনো আগ্রহও জাগেনি। সারা বিশ্বের মানুষ যখন করোনাভাইরাসের মতো বিশ্ব সংকটে পড়েছেন, তখন আমি যা বানিয়েছি; সেটি দিয়ে মানুষের মনোযোগ তৈরি করতে হয়েছে।’

গৌতমের তৈরি করা হ্যালমেট যিনি মাথায় দিয়ে ঘুরছেন, সেই রাজেশ বাবু ভিলিভাকাম নামে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পুলিশ স্টেশনে কাজ করেন। এর কাছাকাছি এলাকাতেই থাকেন গৌতম। শিল্পী যখন দেখলেন, মানুষ অতি সামান্য কারণেও লকডাউনের মতো বিরাট ব্যাপার অমান্য করে বাড়ির বাইরে চলে আসছেন; তখনই তিনি নিজের বাড়ির স্টুডিওতে করোনাভাইরাসের আদলে একটি ব্যানার বানালেন। সেটি প্লাইউডে তৈরি। কাপড় নয় বলে আরও টেকসই হলো। রোদবৃষ্টিতে ভেজা বা তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রইল না। তিনি দিয়ে দিলেন রাজেশকে। দরদি পুলিশ অফিসার সেটি কর্মস্থলে টাঙালেও যথেষ্ট কার্যকর হলো না। মানুষ তেমন সচেতন হতে লাগলেন না। ফলে দুঃখ পেয়ে এমন দেশে গৌতম ঠিক করলেন ভাইরাসের আদলে একটি হেলমেট বানানোর। খবরের কাগজ থেকে করোনাভাইরাসের মৌলিক ও আসল আদল সংগ্রহ করে কেটে রাখলেন। নিজের শিল্পীসত্তা মিশিয়ে খুব সুন্দর হেলমেটটি বানিয়ে ফেললেন। কাজটিকে তিনি বলেন করোনাভাইরাস যুদ্ধের প্রস্তাবলি। তাতে আছে তার করোনাভাইরাসের আদলে বানানো গদা। পুলিশ লাঠি হিসেবে ব্যবহার করছেন। একটি ঢাল আছে তার তৈরি। সেটিও করোনাভাইরাসের মতো করে বানানো। শিল্পী বলেছেন, ‘এখন আমাদের পৃথিবীর সবাই করোনাভাইরাসের বিপক্ষে এক একজন যোদ্ধা হিসেবে লড়ছেন। আমার গদাটি এ অবস্থায় তাই এক মিটার করে দূরত্বে সবাইকে থাকতে বাধ্য করবে, কর্মীকে রক্ষা করবে ঢালটি। যাতে তার শরীরে ভাইরাসটি ঢুকতে না পারে।’

শিল্পী আরও বলেন, ‘আপনি নিজেকে সুরক্ষা দিতে পারলেই তো অন্যদের এবং দেশকে সুরক্ষা দিতে পারবেন।’ ঢালটি বানিয়েছেন প্লাইউড থেকে। গদাটি তৈরিতে ফ্যাশন হিসেবে ব্যবহার করেছেন বাতিল ভলিবল ও কাঠের শস্য কাটার যন্ত্র থেকে। বাকিগুলো খুব ব্যবহার করতে হচ্ছে না, কিন্তু সব সময় পরে থাকা হেলমেটটি মানুষজন খুব সাদরে গ্রহণ করেছেন। পুলিশ বাহিনী, সরকারের বিভিনড়ব পক্ষ থেকে সাধুবাদ, উৎসাহ তো পেয়েছেনই; এমনকি যাদের সচেতন করতে এই কাজ; সেই যাত্রী, মোটরসাইকেল, গাড়িচালকদের বেশির ভাগ রাজেশ বাবুকে পুলিশ অফিসার হয়েও এভাবে সচেতন করায়; কষ্ট করে হেলমেট পরে থেকে মানুষকে সচেতন করায় তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। এমনভাবে তথ্য জানানো ও মানুষকে বাড়িতে থাকতে রাজি করানোকে বিরল ভালো কাজ বলেছেন তারা।

গৌতমের এই শিল্পকর্ম থেকে বেঙ্গালুরুর পুলিশ বিভাগ এত উপকার পেয়ে উদ্দীপ্ত হয়েছেন যে, তারা অনেকে করোনাভাইরাস আদলের হেলমেট পরা শুরু করেছেন। পাশাপাশি তারা মানুষকে ব্যঙ্গ করছেনÑ কেন তারা এ সময় সরকারি আদেশ না মেনে রাস্তায় নেমে আসছেন। তাদের ব্যবহার করা উপকরণগুলো গৌতমের বানানো নয়। তার মানে তার কাজের পর আরও অনেকে আগ্রহী হয়ে, প্রয়োজনের তাগিদে নানা কিছু প্রধানত হেলমেট বানাচ্ছেন। সেগুলোর মধ্যে হলুদ, সবুজ রঙের করোনাভাইরাস হেলমেট আছে। তবে তিনি নাটুকে কাজ বলে এগুলোকে স্বীকৃতি দেননি। বলেছেন, ‘আমার করোনাভাইরাস আমোদ দেওয়া নয়, মানুষকে শিক্ষিত করার কাজ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

গৌতমের নিজের কথা

বি. গৌতমের জীবনের গল্পও অন্যরকম। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ভালো বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এরপর শিল্পী মনের এই মানুষটি বাণিজ্যিক শিল্পকর্ম বা কমার্শিয়াল আর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সেই পেশাতে গেলেন। এখন তার বয়স ২৭ বছর। তিনি খুব মানবিক ও পরিবেশসচেতন শিল্পী। তার এই দক্ষতা পরিবেশের প্রতি মানুষের সচেতনতা বাড়াতে থিয়েটারগুলোতে কাজের মাধ্যমে ছড়ান। তার মন্ত্র হলোÑ ‘নিজের ইগো বা অহংবোধ ভুলে যান ও পরিবেশ দূষণের কারণগুলো যেন না হয়, সেটি অক্ষুণড়ব রাখুন।’

তার সাড়া জাগানো হেলমেট অনেকটা ইটির মতোই দেখতে। এ বিষয়ে গৌতম ব্যাখ্যা দিলেন, ‘ইটি আমি খুবই ভালোবাসি; তবে আমার ইটি চেনড়বাইয়ের।’ এরপর বললেন তিনি, ‘আমি এই শহরকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি, ঠিক যতটুকু ভালোবাসি আর্ট। খুব কষ্ট হয় যখন দেখি কীভাবে মানুষজন পরিবেশের ক্ষতি করছেন। তাদের বাজে অভ্যাসগুলো দিয়ে তারা কাজগুলো করছেন। তার মধ্যে আছে তারা আবর্জনা ফেলছেন সৈকতগুলোতে। আমি তাদের ঠেকাতে কাজ করছি। আমার অসীম শক্তি আছে শিল্পকর্ম বানানোতে। মনে করি, মানুষকে সাহায্য করতে একজন তার শক্তিকে ব্যবহার করতে পারেন।’

তার পরিবেশবান্ধব বা এনভায়রনমেন্টাল আর্ট প্রজেক্টগুলোর মধ্যে আছে প্লাস্টিকের বিপক্ষে একটি উদ্যোগ; ২০১৯ সালে প্রদর্শিত হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল তার মহৎকর্ম, একবার ব্যবহার করা যেমনÑ পানির বোতল ও বারবার ব্যবহার করা যেমন পলিথিন; চেনড়বাইয়ের পথঘাট ও বাড়ির আশপাশ থেকে পরিষ্কার করে ফেলার উদ্যোগ। গৌতম তখন প্লাস্টিকের বাতিল বোতলের মুখ দিয়ে বানিয়েছিলেন ২৩ ফিট লম্বা একটি বিশাল কিলার হোয়েল বা খুনে তিমি। বোতলের মুখগুলো দিনের পর দিন জমিয়েছেন, কিনেছেনও। অসংখ্য মুখে তৈরি তিমি মাছটি প্রদর্শন করেছেন তার শহরের সৈকতগুলোতে নিয়ে নিয়ে।

তার ইন্সটাগ্রাম পেজটিতে আরও অনেকের মতো খবর প্রকাশ করেন। তাতে তিনি জানিয়েছেন, এখন থ্রিডি ক্রেয়েটিভ ওয়ার্ক’ করছেন। থ্রিডিতে সৃজনশীল উপায়ে তার নোভেল করোনাভাইরাসের বিপক্ষে এখন কাজ চলছে কাজের ভবিষ্যৎ, কীভাবে করছেন, কবে প্রদর্শনের জন্য যাবেন কোনো কিছুই বিস্তারিত না জানালেও করোনা হেলমেটের দৌলতে ছড়িয়ে যাবে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে। হেলমেটের মতো তার এই কাজও আলাদা হবে বলছেন সবাই। শিল্পী বললেন, ‘আমি করোনা ভালোবাসি। কারণ এই ভাইরাস আমাদের জানতে বাধ্য করছে, আমরা মানুষ; এই গ্রহের আরও অনেকের মতো এক ধরনের বাসিন্দা ছাড়া আর কিছু নই। আমরা বিরাট পৃথিবীতে ফড়িংয়ের মতো ছোট আকারের একটি প্রজাতি। এ কারণেই কত সহজে কভিড-১৯ রোগের ভাইরাস আমাদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ বাড়িতে বসিয়ে রাখতে পারছে, বাধ্য করছে।’