জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন তার একাধিক স্বজন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কারা কর্র্তৃপক্ষের ডাকে তারা কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। কারা কর্র্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কারা কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো সময় মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। এর আগে যেসব আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে তা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বজনদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করতে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চটি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুত জল্লাদের একটি দলও।
যেকোনো সময় কার্যকর হতে পারে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যায় সরাসরি জড়িত মাজেদের মৃত্যুদণ্ড। আজ শনিবার অথবা আগামীকাল রবিবার ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা বেশি বলে জানান তারা। কারা কর্মকর্তারা জানান, মাজেদের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত মোট পাঁচজন দেখা করেন। তারা হলেন তার স্ত্রী সালেহা, স্ত্রীর বোন ও বোনজামাই, ভাতিজা ও এক চাচা শ্বশুর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি পলাতক ছিলেন তাদেরই একজন সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া ক্যাপ্টেন মাজেদ। ৭২ বছর বয়সী মাজেদকে গত মঙ্গলবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতের আদেশে মাজেদকে নিয়ে যাওয়া হয় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে। পরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আদালত। দীর্ঘদিন পলাতক থেকে আপিলের সুযোগ হারানো মাজেদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে তাও খারিজ হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর এখন মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। যেকোনো দিন ফাঁসি কার্যকর করা হবে।