পুরো বিশ্ব যে স্থবির হয়ে গেছে কভিড-১৯ মহামারীর দাপটে। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, খেলাধুলা, পর্যটকদের প্রিয় স্থান, কনসার্ট, রেস্টুরেন্টসহ গণজমায়েতের সবগুলো স্থানই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা না দিলেও নিজেকে এবং আশপাশের মানুষদের সুস্থ রাখার স্বার্থে প্রত্যেককেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না গিয়ে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
অনেকেই আবার ঘরে বসেই সম্পন্ন করছেন অফিসের সব কাজ। তবে সাবধানতার এমন দিনে যখন ঘরে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দেরও স্বাগত জানানো বাড়ন, তখন মাঝেমধ্যে অবসন্ন লাগাটাও অস্বাভাবিক নয়। সেলফ কোয়ারেন্টাইন বা হোম কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোও যেন ভালোভাবে কাটে, সে ক্ষেত্রে করতে পারেন নিচের কাজগুলো_
পরিবারকে সময় দিন
এত দিন কাজের চাপে পরিবারের সঙ্গে হয়তো দিনে একবারও চা পানে শামিল হতে পারেননি অথবা সকালের নাশতাও একসঙ্গে করার সুযোগ মেলেনি। ঘরে থাকার এই দিনগুলোয় বাবা-মা, ভাইবোন, জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটান। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে গল্প করুন, সিনেমা দেখুন, লুডু, দাবা বা ক্যারম খেলায় মেতে উঠুন অবসর বিকেল বা সন্ধ্যায়। রাতে একসঙ্গে সিনেমাও দেখে ফেলতে পারেন বসার ঘরেই। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গৃহকর্মীকে মাসিক বেতন চুকিয়ে আপাতত ছুটি দিয়ে দিন। ঘরের পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে হাতে হাতে সেরে নিন, এতে নিজেদের মধ্যে বন্ধন আরও মজবুত হবে আবার কারও ওপর কাজের চাপও পড়বে না। তবে হ্যাঁ_ পরিবারের কারও হাঁচি, কাশি ও জ্বর থাকলে তাকে আলাদা ঘর ও বাথরুমের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ওষুধ সেবন করবেন, সাবধানতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি দূরত্ব বজায় রাখবেন।
শখের চর্চা
ব্যস্ততার কারণে হয়তো নিজেকেই আমরা হারিয়ে ফেলি অনেক সময়। নিজের ভালো লাগা, পছন্দ আর ইচ্ছাগুলোকে সময় দিন এ সুযোগে। ছবি আঁকতে বা লেখালেখি করতে পারেন এ সময়। সেলাই, ডেজার্ট মেকিং বা মনমতো অন্দরসজ্জার কাজটিও সেরে ফেলতে পারেন বদ্ধ দরজার ভেতর থেকেই।
বই পড়ুন
ছুটির বা হোম কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোয় তালিকা করে পড়ে ফেলতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোও। যেগুলো সংগ্রহে রয়েছে কিন্তু পড়া হয়নি, সেগুলো ধরে ধরে পড়ে ফেলুন। আর এখন তো অনলাইনে ডাউনলোড করেই প্রচুর বই পড়ে ফেলা যায়।
নিজের যত্ন নিন
কভিড-১৯-এর সংক্রমণ ঠেকাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বারবার হাত পরিষ্কারের পাশাপাশি নখ, চুল ও পায়ের যত্নও নিন। নখে যেন ময়লা না জমে। নিয়ম করে পেডিকিওর ও ম্যানিকিওর করুন ঘরে বসেই। তা ছাড়া রোজ বাইরে বের হওয়ার জন্য চুলের ওপরও কম ধকল যায় না। রোদ, দূষণ ও অযত্নের ফলে চুলের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা আস্তে আস্তে সারিয়ে তুলতে পারেন এই দিনগুলোয়।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন ও স্ট্রেসমুক্ত থাকুন
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। তবে বেশি নয়। করোনাভাইরাস যেহেতু নতুন একটি রোগ এবং এর প্রতিকার নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে, সেহেতু খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আতঙ্কিত পুরো পরিস্থিতি নিয়ে। কিন্তু আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকেই চেষ্টা করতে হবে সতর্ক থাকার ও পরিচ্ছন্নতার রুটিন মেনে চলার, যাতে রোগ না ছড়ায়। খুব ভালো হয় যদি প্রার্থনা করার অভ্যাস তৈরি করা যায় নিজ নিজ জায়গা থেকে। মেডিটেশন ও যোগব্যায়ামও স্ট্রেসমুক্ত রাখতে সহায়তা করে।