না. গঞ্জে সিভিল সার্জনসহ আরও ৩ চিকিৎসক আক্রান্ত

নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজসহ জেলার আরও তিন চিকিৎসকের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে সিভিল সার্জনের করোনা পজেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলার করোনাভাইরাস বিষয়ক ফোকাল পারসন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। নতুন আক্রান্ত অন্য দুজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের এবং আরেকজন শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক। দেশে করোনাভাইরাস বিস্তারের ‘এপিসেন্টার’ হয়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জে এ নিয়ে মোট পাঁচ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় ঢাকা স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) চৌধুরী ইকবাল বাহারকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।

তিনি আরও জানান, করোনায় আক্রান্ত খানপুর হাসপাতালের মেডিকেল কনসালটেন্ট ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। আর শহরের সিটি লাইফ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসককে গতকাল শনিবার দুপুরে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত খানপুর হাসপাতালের মেডিকেল কনসালটেন্টের বয়স ৪২ বছর এবং সিটি লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসকের বয়স ৪৫ বছর বলে জানা গেছে।

এর আগে জাহিদুল ইসলাম নিজেও করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হন। গত ৮ এপ্রিল থেকে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। এ ছাড়া গত ২৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের এক অর্থোপেডিক চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। তিনি ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাঠপর্যায়ে কাজ করায় সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার শরীর থেকে নমুনা নেওয়ার পর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর আগে কয়েক দিন ধরে তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। করোনা পজিটিভ আসার পর থেকে আইসোলেশনে আছেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সিভিল সার্জনসহ অন্য চিকিৎসকরা করোনায় আক্রান্ত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে কাজ করা জেলা প্রশাসক মো. জসিমউদ্দিনের করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল রাত পর্যন্ত এক নারীসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন সিভিল সার্জনসহ মোট ৮৩ জন। নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্য জেলায় যাওয়া বেশ কয়েকজনের মধ্যেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যে কারণে নারায়ণগঞ্জকে করোনাভাইরাস বিস্তারের ‘নতুন এপিসেন্টার’ বলছে আইইডিসিআর। এ পরিস্থিতিতে পুরো জেলাকে ইতিমধ্যে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।